এইডস রোগীদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ ও মানসিকতা ‘দুঃখজনক’ ও ‘অপ্রত্যাশিত’ আখ্যা দিয়ে তা পাল্টানোর আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

শনিবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “এইডস কোনো অভিশাপ নয়, কিন্তু অনেক এইডস রোগী সমাজে অবহেলিত থাকে, যা প্রত্যাশিত নয়। আমাদের চিন্তা প্রসারিত করতে হবে এবং আচরণ পাল্টাতে হবে।

“যারা এইচআইভিতে আক্রান্ত কিন্তু এখনও শনাক্ত হননি, তাদের প্রতি আমাদের আরও মনোযোগী হতে হবে। কারণ এইআইভি সংক্রমণের জন্য তারা হুমকির কারণ।”

রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এইডস বিষয়ক দ্বাদশ আন্তর্জাতিক কংগ্রেস (আইসিএএপি১২) এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাষ্ট্রপতি।

এইডস নিয়ে বৈষম্য দূর করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “এইডস আক্রান্ত বিধবা, এতিম শিশু ও দম্পতিদের জীবন দুর্দশার মুখে পড়ে। এরা সমাজে একঘরে হয়ে যায়।

“তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়নের এই যুগে এ ধরণের আচরণ খুবই দুঃখজনক।”

বাংলাদেশ এইচআইভি বিস্তার রোধে সাফল্য অর্জন করলেও আত্মতুষ্ঠির সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন রাষ্ট্রপতি।

“যতক্ষণ সমাজের সকল সদস্য এ বিষয়ে সঠিক জ্ঞান অর্জন না করবে এবং আচরণ পরিবর্তন না করবে ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো সমাজ নিরাপদ নয়।”

এইচআইভি সংক্রমণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে আবদুল হামিদ বলেন, “পরিসংখ্যানের দিক থেকে বাংলাদেশ এইডস সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিতে নেই।

“তবে এই ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। কারণ এদেশের বহুসংখ্যক তরুণ বিদেশে চাকরির জন্য যাচ্ছে। আমরা চাই না কোনো নাগরিক এই সংক্রমণের শিকার হোক।”

বিভিন্ন দেশের সরকার, গবেষক, শিক্ষাবিদ, বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং এইচআইভি/এইডসে আক্রান্ত মানুষ আইসিএএপি নামে এই আন্তর্জাতিক ফোরামের সদস্য।

১৯৯০ সালে প্রথম অস্ট্রেলিয়ায় এই সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়। আইক্যাপ এইডস সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলে কাজ করে থাকে। সম্মেলনে ৫৬টি দেশ থেকে প্রায় এক হাজার প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং পার্টনারস ইন পপুলেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (পিপিডি) যৌথভাবে এই সম্মেলনের আয়োজন করেছে।

এই সম্মেলন এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এইডস প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে রাষ্ট্রপতি আশাপ্রকাশ করেন।

এইডস বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার তৈরিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজের জন্য আইসিএএপিএর প্রশংসা করেন তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, কম্বোডিয়ার জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী ইয়াং মৌলি, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য সচিব সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম, আইসিএএপির সেক্রেটারি জেনারেল জো থমাস, ইউনিসেফের প্রতিনিধি ফিলিপ কোরি, এইডস সোসাইটি অব এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিকের প্রতিনিধি মিং হোয়ান চু।

ওএফ