পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন পেট্রলবোমায় নিহত জাহাঙ্গীর (৩৩)। তাকে হারিয়ে নির্বাক হয়ে পড়েছেন স্বজনরা। তাদের কান্নায় ভারি হয়ে উঠেছে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার কিসমত ইলিশপুর গ্রামে জাহাঙ্গীরের বাড়ির পরিবেশ।

তরতাজা মানুষটিকে হারানোর শোকের পাশাপাশি স্বজনদের মনে উঁকি দিচ্ছে সংশয়। কীভাবে চলবে তাদের সংসার?

নিহত জাহাঙ্গীর কিসমত ইলিশপুর গ্রামের সুরত আলী মোড়লের ছেলে। বৃদ্ধ সুরত আলীর পরিবারের সদস্য সংখ্যা ১০ জন। নিহত জাহাঙ্গীরের জাহিদ হাসান (৫) ও শাহিদ হাসান (৩) নামে দুই ছেলেও রয়েছে।

জাহাঙ্গীরের ভাই সেলিম (২৮) জানান, বড় এই পরিবারটির একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন জাহাঙ্গীর। তার ওপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের এখন পথে বসা ছাড়া উপায় থাকবে না।

নিহত জাহাঙ্গীরের মা সাজেদা খাতুন ছেলের মৃত্যুর খবরে শোকে স্তম্ভিত। কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, ‘মঙ্গলবার ট্রাকের মালিক শরিফ হোসেন গরু নিয়ে চট্টগ্রামে যাওয়ার জন্য ভাড়া ঠিক করেন। আমার ছেলে যেতে রাজি হয়নি। কিন্তু ট্রাক মালিকের পীড়াপীড়ির কারণে যেতে বাধ্য হয়। এ যাওয়াই যে তার শেষ যাওয়া হবে তা তো বুঝতে পারিনি।’

স্বামীর মৃত্যুতে বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন জাহাঙ্গীরের স্ত্রী খাদিজা খাতুন (২৪)। প্রতিবেশীরা তাকে চেষ্টা করেও শান্ত করতে পারছেন না। আর দুই শিশুসন্তান জাহিদ ও শাহিদ বুঝেই উঠতে পারছে না তাদের বাবার কী হয়েছে।

যশোরের বাগআঁচড়া সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি ও নিহত জাহাঙ্গীরের ঘনিষ্ঠ সহকর্মী আজিজুর রহমান ভুট্টো জানান, বুধবার চট্টগ্রাম থেকে টমেটোবোঝাই করে ফেরার পথে চাঁদপুরে দুর্বৃত্তদের পেট্রোলবোমা হামলার শিকার হয় ট্রাকটি। এতে দগ্ধ হন চালক জাহাঙ্গীর ও মালিক শরিফসহ কয়েকজন। হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান চালক জাহাঙ্গীর।

জেআই