প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে শাস্তি প্রদান ও বিভিন্ন অভিযান চালিয়েও বন্ধ করা যাচ্ছে না অসাধু দুধ ব্যবসায়ীদের নৈরাজ্য।
নকল দুধ তৈরি থেকে শুরু করে দুধের বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর দ্রব্যদি মিশানো গল্পটা পুরোনো হলেও এবারের ঘটনাটি একাবারেই ভিন্ন।
এবার দুধের মধ্যে মিলল জীবন্ত টেংরা মাছ! অবাস্তব নয়, সত্য। ভেজাল দুধবিরোধী অভিযান চালাতে গিয়ে হাতে নাতে বিষয়টি ধরা পড়েছে উল্লাপাড়া নির্বাহী ম্যাজিষ্টেটের কাছে।
একইসাথে প্রতি মণ দুধে ৮ কেজি করে নদীর পানি মেশানোর সময় একজনকে হতে নাতে আটক করে তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। শনিবার সকালে এমন ঘটনা ঘটেছে সিরাজগঞ্জের উল্লপাড়া উপজেলায়।
জানা যায়, শনিবার সকালে দুধে ভেজাল দেয়ার খবরে উপজেলার দহকুলা নদী ঘাটে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালায় উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.আরিফুজ্জামান।
এ সময় সেখানে নৌকার ওপর ৪০ কেজি দুধের জারিক্যানে প্রায় ৮ কেজি করে নদীর পানি মেশাচ্ছিল রায়গঞ্জের ঘুড়কা বেলতলার দুধ ব্যবসায়ী আব্দুল মোত্তালেব।
ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে এ কর্মকাণ্ড করার সময় হাতেনাতে আটক করে তিন মাসের কারাদণ্ড প্রদান করে। প্রকাশ্যে ভেজাল দুধ ধ্বংস করার সময় তার ভিতর থেকে একটি জীবন্ত টেংরা মাছ বেরিয়ে আসে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারি উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.আরিফুজ্জান জানান, দুধে ভেজাল মেশানোর খবর পেয়ে শনিবার সকালে সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ওই ব্যবসায়ীকে দুধে নদীর পানি মেশানো অবস্থায় আটক করে তিন মাসের কারাদন্ড দেয়া হয়েছে।
তার ভেজাল দুধ ধ্বংস করার সময় তার ভিতর থেকে জীবন্ত টেংরা মাছ পাওয়া গেছে। ওই দুধ ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। এই ব্যবসায়ীর মূল মালিককে গ্রেফতার করা যায়নি।
তিনি সতর্ক করে বলেন, দুধে ভেজাল দেয়ার অভিযোগে এর আগেও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েক জনকে জেল জরিমানাসহ দুধ কারখানা বন্ধ করে দিয়েছি। গোপনে অনেকে আবার একই কাজ করছে।
তাদের ধরতে গোয়েন্দা নজরদারি রয়েছে। এসব অসাধু ব্যবসায়ীর কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় উপজেলা নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক ও স্যানিটারী ইন্সপেক্টর এস এম শহিদুল ইসলাম রন্টু, উল্লাপাড়া মডেল থানার উপ-পরিদর্শক নুরে আলম সিদ্দীকিসহ পুলিশ সদস্যরা অংশ নেয়।
উল্লেখ্য দীর্ঘদিন ধরে উল্লাপাড়ায় একটি চক্র ক্ষতিকারক ক্যামিকেল দিয়ে নকল দুধ তৈরী করে বাজারজাত করে আসছিল। নামি দামি কোম্পানীসহ ওই দুধ যাচ্ছিল ঢাকাসহ সারা দেশে।
বিষয়টি নিয়ে পত্রপত্রিকায় ধারাবাহিক অনুসন্ধানী সচিত্র সংবাদ প্রকাশের পর সারা দেশে তোলপাড় শুরু হয়। নড়ে চড়ে বসে প্রশাসন। প্রশাসনের তৎপরতায় ওই কর্মকাণ্ড কিছু দিন বন্ধ থাকলেও তা আবার শুরু হয়েছে। এএস





