টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার পূর্বাঞ্চল দিয়ে প্রবাহিত লাঙ্গুলিয়া নদী দূষণ ও দখলের ফলে পরিবেশ হুমকির মধ্যে পড়েছে। মানুষসহ গবাদী পশুর ওপর পড়ছে এ দূষণের প্রভাব।
বিপন্ন পরিবেশের মধ্যে বসবাস করছে নদীর দুইপাড়ের মানুষ। নদী দূষণকারীদের বিরুদ্ধে কেউ কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না অভিযোগ করে এলাকাবাসী জানায়, এ অবস্থা চলতে থাকলে দখল ও দূষণে হারিয়ে যাবে এককালের ঐতিহ্যবাহী এ নদী।
তাঁত শিল্পের জন্য বিখ্যাত হওয়ার কারণে টাঙ্গাইল, সিঙ্গাইর, টেংগুরিয়া, ছাতিহাটী, বেহালাবাড়ি, রতনগঞ্জসহ কয়েকটি গ্রামে ছোট বড় অনেকগুলো সুতা প্রসেস মিলসহ সুতা রং এর কারখানা রয়েছে। এসব কারখানার বর্জ্য পরিশোধন না করে সরাসরি লাঙ্গুলিয়া নদীতে ফেলা হয়।
রয়েছে অনেক পোল্ট্রি ফার্ম। বল্লা হাটের সব ধরণের ময়লাসহ প্রতিদিনই জবাই করা পশুর রক্ত ও উচ্ছিষ্ট এ নদীতেই ফেলা হয়। দীর্ঘদিন ধরে এসব বিষাক্ত বর্জ্য নদীতে ফেলার কারণে নদীটি ভয়াবহ দূষণের শিকার হচ্ছে।
সরেজমিন ও সাধারণ মানুষের অভিযোগে জানা যায়, টাঙ্গাইলের তাঁত শিল্প অধ্যুষিত বল্লা, সিঙ্গাইর, টেংগুরিয়া, ছাতিহাটী, বেহালাবাড়ী, রতনগঞ্জসহ প্রায় অর্ধশত গ্রামে ছোট-বড় মিলে প্রায় দেড়হাজার ডাইং ও প্রিটিং কারখানায় সুতা রং করা হয়।
এসব কারখানায় বর্জ্য ইটিপি প্ল্যান্টের মাধ্যমে পরিশোধন না করে সরাসরি লাঙ্গুগুলিয়া নদীতে ফেলা হয়। বছরের পর বছর এসব বিষাক্ত বর্জ্য নদীতে ফেলার কারণে এ নদীটি এখন ভয়াবহ দূষণের শিকার হয়েছে। প্রায় ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ নদীর দু’পাশের মানুষ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
এ নদীর পানি পান করে গবাদি পশুসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে হাঁস মুরগি মারা যাচ্ছে। নদীর মাছসহ গবাদি পশু নদীর পানি পান করে মারা যাচ্ছে। বর্জের দূর্গন্ধে মানুষের বসবাস করাটা কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সুশীল সমাজের দাবি, ভয়াবহ দূষণের শিকার হয়ে আজ অস্তিত্ব সংকটে পড়ছে লাঙ্গুলিয়া নদী। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসন নদী দূষণকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে এটাই তাদের প্রত্যাশা। এ ব্যাপারে এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এলাকায় চরম বির্পযয় নেমে আসবে এমনটাই ধারণা করছেন তারা।
এ ব্যাপারে পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) গবেষণা কর্মকর্তা সোমনাথ লাহিড়ী বলেন,‘পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষার জন্য নদী দূষণমুক্ত করাসহ এর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা জরুরি।’
টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহজাহান সিরাজ বলেন, ‘নদীর জায়গা কেউ দখল করে থাকলে অবশ্যই দখল মুক্ত করা হবে। নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।’
জেলা প্রশাসক মাহবুব হোসেন বলেন, লাঙ্গুলিয়া নদী দখল ও দূষণ নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করার জন্য অ্যাসিল্যান্ডকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্য হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারী বলেন, নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে এবং দূষণরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমরা স্থানীয়দের নিয়ে বসে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান করব।
কাইছার/এমএনজে





