গোপীনাথ দাশ। বয়স মাত্র ৬ বছর। গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার শান্তি নিকেতন এলাকাতে। একই জেলার বোয়ালখালী উপজেলার মাসীর বাড়িতে বেড়াতে এসে রবিবার নিখোঁজ হয় মাত্র ৬ বছরের এই শিশুটি।নিখোঁজের মাত্র ১৪/১৫ ঘণ্টার মধ্যেই গোপীনাথ তাঁর পরিবারের কাছে ফিরেছেন। যার সবচেয়ে বড় অবদান ‘ফেসবুক’।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রবিবার সকাল ৯টায় পথ হারিয়ে গোপীনাথ বোয়ালখালী থেকে চলে আসে পাশের উপজেলা পটিয়াতে। স্থানীয়রা গোপীনাথকে দেখতে পেয়ে স্থানীয় কাউন্সিলরকে বিষয়টি অবহিত করলে বিকেলে পটিয়া উপজেলার ৭নং স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর কামাল উদ্দিন বেলাল তাকে পটিয়া থানা পুলিশের হেফাজতে দেয়।
পটিয়া থানা পুলিশ ও স্থানীয় সাংবাদিকদের সহোযোগিতায় খুঁজে পাওয়া সেই ৬ বছরের শিশু গোপীনাথের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ফেসবুক’সহ স্থানীয় কিছু অনলাইন পত্রিকায় খবর প্রকাশিত করলে ছেলেটির পরিচয় পাওয়া যায়। ফেইসবুকের হাত ধরে প্রায় রাত সোয়া ১২টায় নিখোঁজ গোপীনাথের পরিবার পটিয়া থানায় এসে তাকে নিয়ে যায়।
গোপীনাথের মামা উত্তম মহাজন বলেন, রবিবার সকাল ৯ টার দিকে চা খেয়ে সে খেলতে বের হয়। এরপর থেকে গোপীনাথকে পাওয়া যাচ্ছিল না। তার সন্ধানে এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে। এছাড়া উপজেলার সম্ভাব্য স্থানে খোঁজ করেও পাওয়া যায়নি গোপীনাথকে। হঠাৎ করে তাঁর পিতা বাসু দাশ ফোন করে জানান গোপীনাথ পটিয়া থানাতে আছেন। তাকে পাওয়া গেছে। পরে আমরা রাতে গিয়ে পটিয়া থানা থেকে আমার ভাগিনা গোপীনাথকে নিয়ে আসি।
তিনি বলেন, থানা পুলিশ ও স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিকদের কারণে আমরা আমাদের হারিয়ে যাওয়া ভাগিনাকে ফিরে পেয়েছি। পুলিশ ও সাংবাদিকদের চেষ্টায় গোপীনাথ তার মায়ের কোলে ফিরিছেন। কি ভাবে খোঁজ পেলেন এমন প্রশ্নের জবাবে উত্তম মহাজন বলেন, ‘ফেসবুকে’ আমার ভাগিনার ছবি দেখে আমরা তাকে খুজেঁ পেয়েছি।
জানতে চাইলে পটিয়া থানা পুলিশের ওসি শেখ মোহাম্মদ নেয়ামত উল্লাহ বলেন, একটি শিশুকে তাঁর মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিতে যতটুকু কাজ করার দরকার ছিলো আমি সেটা করেছি। গোপীনাথকে তাঁর পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে পেরে আমি বেশি আনন্দিত। কেননা মায়ের কোল ছাড়া শিশু কখনোই যত্নে থাকে না।
পরিবারের দাবি আপনার অবদানের কারনে তারা তাদের বাচ্চাকে ফিরে পেয়েছেন উল্লেখ করলে তিনি বলেন, আসলে এখানে আমার অবদান বলতে কিছুই নেই। আমি আমার স্থান থেকে যতটুকু সহোযোগিতা করার দরকার ছিলো তা করেছি। তাছাড়া আমাকে সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করেছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। যাদের বিভিন্ন প্রচার প্রচারণার কারণে শিশুটি আজ তার পরিবারকে পেয়েছেন। এছাড়াও উপজেলা শিক্ষা অফিসারের অবদানটাও ছিলো প্রশংসনীয়।
সাংবাদিক রবিউল হোসেন বলেন, বিকেল বেলায় থানা থেকে ফোন আসলে আমরা কয়েকজন ছুটে যাই। পরে ওসি বিষয়টি আমাদের জানালে আমরা স্থানীয় কিছু অনলাইন পত্রিকায় খবরটি প্রকাশ করি। তাছাড়া ‘ফেসবুকে’ খুজে পাওয়া গোপীনাথের ছবি পোস্ট করি এবং তা দ্রুতগতিতে সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়বে তা ছিলো কল্পনার বহিঃপ্রকাশ। রাতে গোপীনাথের পরিবার এসে তাকে নিয়ে যায়। এটাই আমাদের কর্তব্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মাসুম/জারিফ





