কানাডা ভিত্তিক গ্যাস উত্তোলনকরী প্রতিষ্ঠান নাইকো রিসোর্সের পক্ষে কানাডীয় এক সিনেটরের তদবিরের ঘটনার তদন্তে নেমেছে রয়্যাল কানাডিয়ান পুলিশ।

কানাডিয় এ তদন্ত সংস্থা চারদলীয় জোট সরকারের সাবেক অর্থমন্ত্রী (মরহুম) এম. সাইফুর রহমান, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম. মোর্শেদ খান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা মাহমুদুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদে সহযোগিতা চায়। আর কানাডিয়ান সংস্থার তদন্তে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

জানা যায়, এ ব্যাপারে গত জানুয়ারিতে কানাডিয় তদন্ত সংস্থা বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের মাধ্যমে দুর্নীতি দমন কমিশনের সহযোগিতা চেয়ে চিঠি পাঠায়।

এদিকে নাইকো দুর্নীতির ঘটনায় দুদকের একাধিক মামলা বিচারাধীন থাকায় অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় কানাডিয় তদন্ত সংস্থার ওই চিঠিটি ফরোয়ার্ড করে দুদকে পাঠিয়ে দেয়।

পরে দুদকও উল্লেখিত ব্যক্তিদের বর্তমান অবস্থান কানাডীয় তদন্ত সংস্থাকে চিঠিতে জানিয়ে দেয়। এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা আশ্বাস দেন।

সোমবার এ বিষয়টির অগ্রগতি সম্পর্কে দুদক কমিশনার মোঃ সাহাবুদ্দিন চুপ্পু সাংবাদিকদের বলেন, কানাডিয়ান নাইকো কোম্পানি ঘটনার সময় একজন সিনেটরকে বাংলাদেশে পাঠিয়েছিল তৎকালীন সরকারের অর্থমন্ত্রী (মরহুম) এম. সাইফুর রহমান, তৎকালিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম. মোর্শেদ খান এবং জ্বালানি উপদেষ্টা মাহমুদুর রহমানকে প্রভাবিত করতে।

এ তদন্তে রয়্যাল কানাডিয়ান পুলিশ বাংলাদেশের সহযোগিতা চায়। তারা এদেশে এসে ওই তিন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায়।তাদেরকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে এম সাইফুর রহমান মারা গেছেন, মোরশেদ খান দেশে নেই এবং মাহমুদুর রহমান কারাগারে আছেন।

উল্লেখ্য, ২০০৩ সালের ১৬ আগস্ট নাইকো রিসোর্সেস বাংলাদেশ লি: এর সঙ্গে বাংলাদেশের জয়েন্ড ভেঞ্চার এগ্রিমেন্ট স্বাক্ষরিত হয়। যার ফলে নাইকো ছাতক,ফেনী গ্যাস ক্ষেত্র থেকে ১৭৪৪ বিসিএফ গ্যাস উত্তোলনের অবৈধ সুবিধা পায়।

তার মধ্যে চুক্তির শর্তানুযায়ী নাইকো রিসোর্সেস বাংলাদেশ লি: ন্যূনতম ১০ হাজার কোটি টাকার মূল্যমানের গ্যাস প্রাপ্তির অবৈধ সুযোগ লাভ করে।

নাইকোর মতো একটি অদক্ষ কোম্পানিকে গ্যাস উত্তোলনের কাজ দেয়ায় গ্যাস ক্ষেত্র বিস্ফোরিত হয়ে পরবর্তীতে রাষ্ট্রের ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার আথির্ক ক্ষতি হয়। এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রথম চুক্তি স্বাক্ষিরিত হয়।

২০০৭ সালে এ অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে ১৩ হাজার ৬৩০ কোটি ৫০ লাখ টাকা আর্থিক ক্ষতির অভিযোগে দুদক আরো একটি মামলা করে।

কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উচ্চ আদালতের মাধমে মামলার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পান।আর বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এখনো মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে।

ঢাকা,একে, ৭ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // এআর