সিলেটের টিলাগড়ে ছাত্রলীগের দু'গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। দুজনকে আটকও করেছে পুলিশ।
রবিবার রাত নয়টা থেকে সংঘর্ষের শুরু। থেমে থেমে চলে মধ্যরাত পর্যন্ত।
জানা গেছে, সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এক পক্ষের নেতৃত্ব দেন জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রায়হান। অপরপক্ষকে সক্রিয় রাখেন যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কামরুল।
ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া আর গোলাগুলিত জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রায়হান চৌধুরীসহ উভয়পক্ষের অন্তত ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
এদিকে, সংঘর্ষ চলাকালে যুবলীগ নেতার দোকানসহ অন্তত ৮টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর ও লুট করেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, কলেজ ছাত্রলীগের ঘোষিত কমিটির পদবঞ্চিতরা তাদের শতাধিক অনুসারি নিয়ে জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলামের নেতৃত্বে টিলাগড় পয়েন্টে জড়ো হয়।
সেখানে রাত নয়টার দিকে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রায়হানের উপর হামলা চালায়। এ সময় আজমির রেস্তোরা নামে একটি খাদ্যের দোকানে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। ক্যাশ লুটেরও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এর কিছুক্ষণের মধ্যে রায়হান চৌধুরীর অনুসারিরা জড়ো হয়ে পাল্টা হামলা চালায়। এ সময় আরেকটি রেস্তোরায় হামলা হয়। ধারাল অস্ত্র ব্যবহার ছাড়াও উভয়পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময় হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
ঘটনার এক পর্যায়ে রাত ১১টার দিকে এসএমপির উপকমিশনার বাসু দেব, অতিরিক্ত উপকমিশনার (দক্ষিণ) জেদান আল মুসা অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে টিলাগড়ে যান।
ছাত্রলীগ নেতাদের একপক্ষকে তাড়া দিলে অপরপক্ষের নেতাকর্মী এমসি কলেজের সামনের ফুড গ্যালারি লুট করে টিলাগড় পয়েন্ট এলাকায় ব্যাপক ভাংচুর চালায়।
পরে উভয় দিক থেকে পুলিশ ধাওয়া করলে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যায়। আশপাশ এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ দুজনকে আটক করে।
মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার জেদান আল মুসা বলেন, ছাত্রলীগের দুইপক্ষের মধ্যে মারামারির খবরে শাহপরাণ থানার ওসিসহ তিনি অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। পরিস্থিতি শান্ত করতে লাঠিচার্জ ও ১ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছোঁড়া হয়।
ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে টিলাগড়ের পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এআই





