আর ৯দিন পরেই পবিত্র হজ্জ অনুষ্ঠিত হবে। হজ্জ পালনের সময় স্মরণকালের ভয়াবহ দুর্ঘটনায় কিছুটা হলেও আতঙ্কিত হাজিরা। প্রতি নামাজের পরেই তারা হতাহতদের জন্য দোয়া করছেন। এরই মধ্যে নিহতের সংখ্যা ১১০ জন ছাড়িয়ে গেছে। নিহত হাজিদের মরদেহ শরাইয়া মুআসিম হাসপাতালের মরচ্যুয়ারি বিভাগে রাখা হয়েছে।

নিহতদের মধ্যে একজন বাংলাদেশী। নাম আবুল কাশেম বাড়ি কক্সবাজার। তিনি দুর্ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন। শনিবার বিকালে হজ্জ মিশন তার মরদেহ সনাক্ত করে। অন্যদিকে মিশন সূত্রে আরও দুজনের নিখোঁজ থাকার খবর পাওয়া গেছে- নিখোঁজদের মধ্যে গ্যালাক্সি ট্রাভেলসের মাধ্যমে আগত খুলনার সরদা আ: রব (৫১) ও বোরাক ট্রাভেলসের আরিফ রব্বানী (৪৪)।

এছাড়াও আহতদের মধ্যে অন্তত ৪০ বাংলাদেশী হজ্জ যাত্রী রয়েছেন। শিরসা কিং ফয়সাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন চট্টগ্রামের নিজাম উদ্দীনের অবস্থা গুরুতর। বাকীদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। আবার অনেকেই চিকিৎসা শেষে হোটেলেও ফিরে এসেছেন।

এদিকে দুর্ঘটনার পর থেকে ৬৮টি উচ্চ পর্যায়ের মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। যারা হাজিদের সার্বক্ষণিক খোঁজ খবর নিচ্ছেন। এছাড়াও হেরেম শরীফ সংস্কার ও বর্ধিত অংশ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান বিন লাদেন কনস্ট্রাকশন ফার্মকে কাজ স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।

তবে হেরেম শরীফ পরিদর্শন করে দেখা গেছে, দুর্ঘটনাস্থলসহ পুরো এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। বাইরের নিরাপত্তা ব্যাবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। হাজিরা নিয়মিত তাওয়াফ সালাতসহ ইবাদত বন্দেগীতে মশগুল আছেন। কিন্তু উদ্বিগ্ন স্বজনরা প্রতিনিয়ত তাদের খোঁজ খবর নিচ্ছেন। হজ্জ মিশন ও ট্রাভের এজেন্সিগুলোর মাধ্যমে।

অন্যদিকে মক্কায় অবস্থিত বিভিন্ন দেশের দূতাবাস ও কনসাল অফিস তাদের দেশের নিহতদের সনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার হেরেম শরীফের সংস্কার ও বর্ধিত অংশ নির্মাণে ব্যবহৃত একটি ক্রেন ছিড়ে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এটি নিহতের দিক থেকে স্মরণকালের ভয়াবহ। কর্তৃপক্ষ বলছে, ঝড়ো হাওয়া ও তুমুল বৃষ্টির কারণে ক্রেনটি পতিত হয়েছিল।

শনিবারে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে হাসপাতালে গিয়ে আহতদের সঙ্গে দেখা করেন সৌদির বাদশাহ সালমান। এই দুর্ঘটনার বিষয়টি তদন্ত করে, তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করা হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

হজ্জ শুরু হবার মাত্র ৯দিন বাকি আছে। তার মধ্যেই এই ঘটনা ঘটলো। এই মাসের শেষের দিকেই সারা দুনিয়ার ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের একটি বিরাট অংশ মক্কায় হজ পালনের জন্য আসবেন। এই সংখ্যা এবারে অন্তত ২০ লাখের বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এমএইচ/ এআর