জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) আ ফ ম কামালউদ্দিন হলের কিছু ক্ষমতাধর ছাত্রের ‘ধারাবাহিক অসৌজন্যমূলক আচরণ’ ও হল প্রশাসনকে বিভিন্ন কারণে চাপ দেওয়ায় ‘নিরাপত্তাহীনতা’র কথা উল্লেখ করে ৯ শিক্ষক হল প্রশাসনের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন।

মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করে হলের দায়িত্বে থাকা ওই শিক্ষকরা পদত্যাগপত্র জমা দেন।
পদত্যাগ করা নয় শিক্ষক হলেন- হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক নজিবুর রহমান, ওয়ার্ডেন এইচ এম সাদত ও মো. খোরশেদ আলম, আবাসিক শিক্ষক মো. ফখরুল ইসলাম ও মো. মিজানুর রহমান, সহকারী আবাসিক শিক্ষক মো. তাজউদ্দিন সিকদার, মো. মোজাম্মেল হোসেন, কাজী রাসেল উদ্দিন ও সুব্রত বণিক।
পদত্যাগপত্রে ওই শিক্ষকরা উল্লেখ করেন, ‘গত ২১/০৩/২০১৬ তারিখ (সোমবার) মধ্যরাতে হলের কতিপয় ক্ষমতাশালী ছাত্রের নেতৃত্বে ও উসকানিতে হলের প্রাধ্যক্ষ ও আবাসিক শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অশালীন, কুরুচিপূর্ণ ও চরম অসম্মানজনক ভাষা প্রয়োগ করে একটি মিছিল বের করা হয়। ফলে একটি চরম ভীতিকর ও নিরাপত্তাহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

এ পরিস্থিতি সৃষ্টি করার কারণ হলো, হলের প্রধান বাবুর্চির মৃত্যুতে সৃষ্টি হওয়া শূন্যপদে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য দীর্ঘদিন ধরে হল প্রশাসনকে চাপ দিয়ে আসছিল। এ ব্যাপারে তারা হল প্রশাসনকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিতে ছিল এবং স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল। তাদের হুমকির কারণে হলের প্রশাসনিক কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে অফিসে বসতে পারেননি। হলে আবাসিক শিক্ষকগণ বিভিন্ন কক্ষ পরিদর্শন করতে গেলে তারা বাধার সৃষ্টি করে। এমতাবস্থায় নতুন ছাত্রদের আবাসন প্রক্রিয়া চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

এ ছাড়া পদত্যাগপত্রে দুই-থেকে তিন বছর আগে শিক্ষাজীবন শেষ হওয়া ছাত্রদের প্রভাবশালী ছাত্রদের প্রশ্রয়ে হলে অবস্থান এবং ধারাবাহিকভাবে হলের শিক্ষকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করার কথাও উল্লেখ করেন শিক্ষকরা।

এদিকে আ ফ ম কামালউদ্দিন হলের শিক্ষার্থীরা প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মু. নজিবুর রহমান এর অপসারনের দাবিতে আজ সাড়ে ১২টার দিকে উপাচার্য বরাবর স্বারকলিপি দেন। স্বারকলিপি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরে এ নয় শিক্ষক ক্ষমতাশীন ছাত্র নেতাদের প্রতি এ অভিযোগ তুলে পদত্যাগ করেন।

স্বরাকলিপিতে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেছিলেন, হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মু. নজিবুর রহমানের সাথে হলের শিক্ষার্থীদের কোনো সুসম্পর্ক নেই, হলে ডাইনিংয়ে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে নিজের বাসায় কাজ করাচ্ছেন, খেলাধুলার সামগ্রী কেনার কোন উদ্যোগ নেই এমনকি খেলার মাঠ সংস্কার করতে উদ্যোগ গ্রহণ করছেন না, হলে শৌচাগারের বেহাল দশা, সেদিকে কোন নজর নেই, ডাইনিং ও হলের সামনের দোকানগুলোর খাবারের মান নিম্ন হওয়া সত্ত্বেও হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাবারের মান নিয়ন্ত্রণের কোন তদারকি নেই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য হলগুলোতে ওয়াই-ফাই ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেও কামালউদ্দিন হলে ইন্টারনেট সংযোগ নেই, বার বার বলা সত্ত্বেও হল প্রাধ্যক্ষের কোনো উদ্যোগ নেই, হলের শিক্ষার্থীদের সাথে খারাপ আচরণ হল প্রাধ্যক্ষের নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে, চলতি শিক্ষাবর্ষে সামর্থের অতিরিক্ত বরাদ্দ নিয়ে কৃত্রিম আবাসন সংকট তৈরি করেছে এবং এর জন্য ১ম বর্ষের শিক্ষার্থীরা চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে, তাদের সুবিধার্তে হলের ডাইনিং কক্ষটি খুলে দেওয়া হচ্ছে না এমনকি ইতোমধ্যে কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লেও তিনি তাদের কোনো খোঁজ খবর নেননি।

এছাড়া তিনি নিয়মিত হলে আসেন না। প্রয়োজন হলেই তিনি হলের আবাসিক শিক্ষকদের ব্যবহার করেছে। হলে তার অনুপস্থিতিতে নিয়মিত কার্যক্রমে বাঁধা সৃষ্টি হচ্ছে।

তাই অতিদ্রুত অদক্ষ ও অযোগ্য এই হল প্রাধ্যক্ষকে অপসারণ করে সৎ ও দক্ষ একজন হল প্রাধ্যক্ষ নিয়োগ দেওয়ার জন্য তারা ২৬ মার্চ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামকে সময় বেঁধে দেন।
এদিকে শিক্ষকদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আবুল হোসেন বলেন, ‘উনারা পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তবে গ্রহণ হবে কি না সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়নি। উনাদেরকে হলের কাজকর্ম চালিয়ে যেতে বলেছি আমরা।

দায়িত্বপালন করে যাবেন কি না সে ব্যাপারে জানতে চাইলে পদত্যাগী হল প্রশাসনের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক নজিবুর রহমান বলেন, ‘আমরা পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে দিয়েছি। এখন থেকে আমাদের আর কোনো দায়-দায়িত্ব পালন করবো না।

এম আর