তছনছ হয়ে গেল একটি স্বপ্ন। বেকারত্বের অভিশাপ থেকে নিজেকে মুক্ত করতে অনেক পরিকল্পনা । কাজও শুরু হয়, গড়ে উঠে একটি মুরগির ফার্ম । চলতে থাকে, পাঁচ মাসেই মোটামুটি ভালো জায়গায় পৌছেঁ যায় পরিকল্পনাটি। ছোট পরিসরে শুরু করে লাভের মুখ দেখে এলাকার চাহিদা অনুযায়ী বড় পরিসরে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। চিন্তা অনুযায়ি কাজ । ব্রাক থেকে চার লাখ টাকার বড় ঋণ নিয়ে 'ডিম দেওয়া মুরগি'র বাচ্চা কিনে ফার্মে উঠানো হয় । বিধি-বাম সকালে তোলা চার হাজার লেয়ার মুরগি বৈশাখি ঝড়ে রাতেই শেষ। মাত্র ১২ ঘন্টা না যেতেই একটি স্বপ্ন লন্ডভন্ড হয়ে যায়।
বলছিলাম নতুন উদ্ধোক্তা লালমনিরহাট আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের কচুমুড়া গ্রামের নিরঞ্জনের স্ত্রী শিউলী রানীর কথা।
পরিকল্পনা ছিল সব বাচ্চা বড় হয়ে ৫ মাস পরেই ডিম দিবে। সেই ডিম বিক্রি করে ঋণের কিস্তিসহ চলবে তার সংসারের চাকা। কিন্তু সে স্বপ্ন নিয়ে বেশিদুর এগুতে পারলোনা সে। শুক্রবার দিবাগত রাতে কাল বৈশাখীর ছোবলে তছনছ হয়ে গেল।
শিউলী রানী বলেন, বেকারত্বের অভিশাপ মোচনে নিজেকে স্বালম্বী করে সংসারের চাকা সচল করতে গত ৫ মাস আগে ব্র্যাক থেকে ঋণ নিয়ে নিরঞ্জন পল্ট্রি ফার্মটি গড়ে তুলি। প্রথমে মুরগির মাংস উৎপাদন করে ভাল মুনাফাও পেয়ে ছিলাম। মাংসের চেয়ে মুরগীর ডিমের চাহিদা বেশি হওয়ায় লেয়ার বাচ্চা পালনের সিদ্ধান্ত নেন। সেই স্বপ্ন পুরনে ঋণের পরিমান বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকায় প্রায় ৪ হাজার লেয়ার মুরগীর বাচ্চা ক্রয় করি শুক্রবার সকালে। সারাদিন মুরগীর বাচ্চা গুলোকে খাইয়েছি পরম যত্নে। কিন্তু রাতের আঁধার নামতেই কালবৈশাখীর ছোবলে লন্ডভন্ড হয়ে গেল আমার স্বপ্ন।
শিউলী রানী আরও বলেন, স্নাতক পাশ করেও বেকার থাকব তা হতে পারে না। তাই ঋণের টাকায় পল্ট্রি ফার্মটি গড়ে তুলি। কিন্তু কালবৈশাখী ঝড় আমাকে ঋনের বোঝা মাথায় দিয়ে গেল। এখন স্বপ্নটা বড় দুঃস্বপ্ন হয়ে গেল। ঋনের কিস্তি কি করে পরিশোধ হবে।
ওই এলাকার কলেজ শিক্ষক নারায়ন চন্দ্র বলেন, শিউলী নিরঞ্জন দম্পত্তি অনেক কষ্ট করে ফার্মটি দিয়েছে সংসারে চাকা সচল রাখতে। কিন্তু ঝড়ে পুরো সংসার তাদের তছনছ হয়েছে।
শুক্রবার রাতের এ ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে লালমনিরহাট সদর, আদিতমারী ও কালীগঞ্জ উপজেলার কয়েক হাজার ঘর বাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিপনী বিতান লন্ডভন্ড হয়ে যায়। অসংখ্য গাছপালা ও বৈদ্যুতিক খুটি উপড়ে পড়ে। এসব এলাকায় এখন পর্যন্ত বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবুল ফয়েজ মোঃ আলাউদ্দিন খাঁন বলেন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমান নিরুপন করতে ইউএনওসহ সকল দফতরকে মোবাইলে বলা হয়েছে। তবে হতাহতের কোন খবর পাওয়া যায় নি।
জারিফ





