অবশেষে রাজশাহী থেকে সরিয়ে নেওয়া হলো বহুল আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা আলমগীরকে। বর্তমানে রাজশাহীর পবা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলমগীরকে বগুড়া জেলায় বদলি করা হয়েছে। সোমবার বিকেলে পুলিশ সদর দফতরের এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা রাজশাহী রেঞ্জে এসে পৌঁছেছে।
মঙ্গলবার বিকেলে রাজশাহীর পুলিশ সুপার কার্যালয় সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। নির্দেশনায় ২ দিনের মধ্যে আলমগীরকে বগুড়ায় যোগদানের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের ঊর্ধ্বতন সূত্রে জানা গেছে, বেশ কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ এবং শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে পুলিশ সদর দফতর থেকে সিকিউরিটি সেল ওসি আলমগীরের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে।
তদন্তে বিভিন্ন অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে পুলিশের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। এ কারণেই আলমগীরকে রাজশাহী থেকে বগুড়ায় বদলি করা হয়েছে।
এর আগে রাজশাহী মেট্রোলিটন পুলিশের (আরএমপি) বোয়ালিয়া থানায় ওসি হিসেবে আলমগীর যোগ দেন গত বছরের ডিসেম্বরে। এরপর তিনি মামলা বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েন।
এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে মামলা দিয়ে ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়, গ্রেফতার বাণিজ্য, মাদক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মাসোহারা উত্তোলনসহ বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ।
একপর্যায়ে চলতি বছরের মার্চে বহুল আলোচিত ওসি আলমগীর নাশকতার মামলায় জড়িয়ে দেন সিনিয়র সাংবাদিক আনু মোস্তফাসহ রাজশাহীর তিন গণমাধ্যমকর্মীকে।
এর ফলে ওসি আলমগীরের বিরুদ্ধে রাজশাহীর গণমাধ্যমকর্মীরাসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা আন্দোলনে নামেন।
বোয়ালিয়া থেকে আন্দোলনের ফলশ্রুতিতে প্রত্যাহার করে নেওয়া হলেও আলমগীরকে রাজশাহীর গোদাগাড়ী থানায় প্রাইজ পোস্টিং দেন রাজশাহী রেঞ্জের শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা।
কিন্তু গোদাগাড়ী-তানোরের সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী বাধ সাধেন। তিনি আলমগীরের মতো একজন দুর্নীতিবাজ পুলিশ কর্মকর্তাকে গোদাগাড়ী থানায় বদলির বিরোধিতা করেন।
তাকে সেখানে পোস্টিং না দেওয়ার জন্য রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজিকে অনুরোধ করেন। একপর্যায়ে তাকে পবা থানায় পোস্টিং দেওয়া হয়।
পবায় পোস্টিং পাওয়ার পর আবারো মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সখ্যতা, নজিরবিহীনভাবে বিচারকের বিরুদ্ধে জিডি, মামলায় ফাঁসিয়ে দিয়ে অর্থ আদায়, গ্রেফতার বাণিজ্য এবং সর্বশেষ মামলার বাদীকে না জানিয়ে আসামি করাসহ বিভিন্ন ধরনের গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ ওঠে আলমগীরের বিরুদ্ধে।
বগুড়ায় বদলির বিষয়ে রাজশাহীর পুলিশের সুপার নিসারুল আরিফ বলেন, আলমগীর হোসেনকে বগুড়ায় বদলি করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আছে সেগুলোর তদন্ত চলছে।
এমকে





