সোনারগাঁও হোটেল থেকে বিএফডিসি মোড়ের দিকে যেতেই চোখে পড়ে রাস্তার মাঝে চটের কাপড় দিয়ে ঘেরা জায়গা। ভেতরে বিশাল মেশিন দিয়ে ভাঙা হচ্ছে ফ্লাইওভারের স্লাব। কংক্রিটের ভাঙা টুকরোগুলো সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারের সম্প্রসারিত অংশের কাজ হচ্ছে এখানে। এ অংশের কাজে প্রথমে রেলক্রসিংয়ের আগেই বিএফডিসির সামনে বিভিন্ন যানবাহন ফ্লাইওভার থেকে নামিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। সে অনুযায়ী কাজও হয়েছিল। কিন্তু এখন সংযোজিত নকশায় একে রেলক্রসিংয়ের ওপর দিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। আগের তৈরি স্লাব এখন আর কাজে আসছে না। নতুন নকশা অনুযায়ী তাই এগুলো ভাঙা হচ্ছে।

বর্তমানে নির্মাণকাজ চলায় রাস্তার দুপাশের সরু অংশে মানুষ ও যানবাহনকে যাতায়াত করতে হচ্ছে। রাস্তার অবস্থা স্বাভাবিকভাবেই খারাপ, খানাখন্দ তো আছেই। যানজটও লেগে থাকে প্রায় সময়। আর বৃষ্টি হলে ভোগান্তি আরও বাড়ে।

1d941ac21e7a90519d7f4c0d24a1a034-03.jpgff

এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিনই অফিসে যেতে হয় আতাউল হককে। তিনি জানান, এদিক দিয়ে যাওয়ার সময় ধুলোতে খুব সমস্যা হয়। আতাউল বলেন, ‘রাস্তায় নেমে আসা স্লাব দেখে ভেবেছিলাম কাজ মনে হয় শেষ। পরে দেখলাম আবার নতুন করে পিলার তৈরির কাজ হচ্ছে।’

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মো. সোহরাব আলী বলেন, ‘এ রাস্তায় যানজট লেগেই থাকে। একবার দেখি নতুন করে পিলার তোলা হচ্ছে, আবার স্লাব ভাঙা হচ্ছে। জনগণের করের টাকা তো, অপচয় করতে মনে হয় সমস্যা নাই।’মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারের সম্প্রসারিত অংশের কাজ যৌথভাবে করছে সিমপ্লেক্স-নাভানা। বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে আছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।

নির্মাণস্থলে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ীই নকশা পরিবর্তন করা হয়েছে। ফ্লাইওভারের মাধ্যমে রেলক্রসিংয়ের ওপর দিয়ে গাড়িগুলো নিয়ে যাওয়া হবে। ফ্লাইওভারে থাকা বিভিন্ন যানবাহন নামিয়ে দেওয়া হবে সোনারগাঁও হোটেলের গেটের কাছে।

প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা বলেন, এখন আগের স্লাব ভাঙা হচ্ছে। চলতি মাসের ৭ তারিখ থেকে ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে। আগামী ২২ তারিখের মধ্যেই এ কাজ সম্পূর্ণ হয়ে যাবে। তিনি দাবি করেন, এতে যানবাহনের চলাচলের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হচ্ছে না।

এই সমন্বিত ফ্লাইওভার প্রকল্পের সম্পূর্ণ কাজ ২০১৪ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হয়নি। এর পরে সময় নির্ধারণ করা হয় ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর। সেইবারও কাজ শেষ হয়নি। পরে মগবাজার-মৌচাক উড়ালসড়কের (ফ্লাইওভার) তেজগাঁও সাতরাস্তা-হলি ফ্যামিলি অংশের উদ্বোধন হয় চলতি বছরের ৩০ মার্চ। ওই সময় ফ্লাইওভারের নকশার ত্রুটিও আলোচনায় এসেছিল।

সম্প্রসারিত অংশের কাজ নিয়ে মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারের প্রকল্প পরিচালক মো. নাজমুল আলম বলেন, ফ্লাইওভারের সম্প্রসারিত অংশের ফাউন্ডেশনের কাজ শেষ হয়ে গেছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই পুরো কাজ শেষ হয়ে যাবে।

437d663aea3737ab2e57ad1bdb1322df-02.jpgf

সম্প্রসারিত অংশের কাজে মোট কত ব্যয় হচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে মো. নাজমুল আলম বলেন, ‘এখনই নির্দিষ্টভাবে তা বলা যাবে না। বাজারদর অনুযায়ী মোট যত টাকা আসে, তা আসবে। তবে আনুমানিক ৫০ থেকে ৭০ কোটি টাকা লাগবে।’

আগের তৈরি পিলারগুলো ভেঙে ফেলা হবে না বলে জানান প্রকল্প পরিচালক। তিনি বলেন, ‘সেগুলো সম্প্রসারণ করা হবে। যেটা যতটুকু বাড়ানো দরকার তা করা হবে। তবে যে স্লাব তৈরি করা হয়েছিল তা থাকবে না।’

এতে প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মো. নাজমুল আলম বলেন, ‘খরচ বেড়েছে এভাবে তো বলা যায় না। যদি কিছু ভাঙার কারণে পয়সা লাগবে, যদি কিছু জোড়া লাগাই তার জন্য পয়সা লাগবে।’

নকশা পরে পরিবর্তন করা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে মো. নাজমুল আলম বলেন, ‘আগে নকশা ছিল এফডিসি গেট পর্যন্ত নামানোর। পরে তা সম্প্রসারণ করা হয়েছে।’(সূত্র প্রথম আলো)