ঈদুল আযহা ও দূর্গাপূজা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষদের বিশেষ নিরাপত্তা দেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে নৌমন্ত্রণালয়। পাশপাশি কোন নৌরুটে ফিটনেসবিহীন নৌযান চলাচল করতে না পারে সে জন্য কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
রোববার আসন্ন ইদুল আযহা ও দূর্গাপূজা উপলক্ষে অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ বিআইডব্লিউটিএ আয়োজিত 'ঈদ ম্যানেজমেন্ট' শীর্ষক বৈঠকে লঞ্চ মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঈদুল আযহা ও দূর্গাপূজা উপলক্ষে ঘরমুখো যাত্রীদের নিরাপত্তা দিতে একটি পরিপত্র তৈরি করেছে বিআইডব্লিউটিএ। পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, নৌমন্ত্রণালয় নৌপথের নিরাপত্তায় ঈদুল আযহার আগে-পরে ৭ দিন করে মোট ১৪ দিন রাতে সব ধরনের মাল বহনকারী নৌযান ও বালুবাহী বাল্কহেড চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
আইন লংঘনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলোতে ঈদের আগে-পরে মোট ১৪ দিন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা ও সমুদ্র পরিবহন অধিদফতরের কর্মকর্তাদের নিয়োজিত রাখা হবে। এছাড়া তৃতীয় শ্রেণীর (ডেক) যাত্রীদের ভাড়া নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ১০ ভাগ কমানোর প্রস্তাব করা হবে।
এছাড়া মাওয়া-কাওড়াকান্দি, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া, চাঁদপুরসহ ঝুঁকিপূর্ণ নৌপথগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি পিনাক-৬ লঞ্চ দুর্ঘটনার মতো আর কোন লঞ্চ দুর্ঘটনার শিকার না হয় সে জন্য যাত্রি পারাপার লঞ্চে ওভারলোডিং ও ফিটনেসবিহীন নৌযান চলাচল বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।
সূত্র আরও জানায়, বিগত ঈদগুলোতে লঞ্চ মালিকরা সরকারকে জিম্মি করে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় চলাচল করেছে। বাধা দিলেই ক্ষমতাধর লঞ্চ মালিকরা বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তাদের হুমকি-ধমকিসহ বিভিন্ন ভাবে লাঞ্ছিত করেছেন। এছাড়াও কথায় কথায় যাত্রী জিম্মি করে ধর্মঘটের হুমকি দেন।
গত ঈদুল ফিতরে অব্যবস্থাপনা ও অতিরিক্ত যাত্রী বহনের কারণে মাওয়ায় পিনাক-৬ লঞ্চ দুর্ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার আলোকে এবার নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। সব শ্রেণীর যাত্রীদের টিকিট কেটে লঞ্চে উঠার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হবে। টিকিটের হিসাব থেকে লঞ্চের যাত্রীসংখ্যা বের করা হবে। ধারণক্ষমতার সমপরিমাণ যাত্রী উঠলেই লঞ্চ ছাড়তে বাধ্য করা হবে। যেসব লঞ্চ মালিক এর বিরোধিতা করে ধর্মঘটসহ কোন পরিস্থিতির সৃষ্টির চেষ্টা চালালে তাদের বিষয়ে আইনগত কঠোর পদক্ষেপ নিবে নৌমন্ত্রণালয়।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন,বিগত বছরের ঈদগুলোতে লঞ্চ মালিকরা সরকারকে জিম্মি করে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় চলাচল করছেন। বাধা দিলেই ক্ষমতাধর লঞ্চ মালিকরা বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তাদের হুমকি-ধমকিসহ বিভিন্ন ভাবে লাঞ্ছিত করছে। এসব লঞ্চ মালিকরা প্রভাবশালী হওয়ায় কোন ব্যবস্থা নেয়া যায়নি। তাই লঞ্চ মালিকদের শৃঙ্খলার মধ্যে ফিরিয়ে আনতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, লঞ্চ মালিকরা প্রস্তুতির অভাবসহ বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে তৃতীয় শ্রেণীর (ডেক) যাত্রীদের আগাম টিকিট ব্যবস্থা মেনে নিতে চাইবেন না। মালিকরা যাতে বিষয়টি মেনে নেন সে জন্য অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়ে দেয়া হবে।
উল্লেখ্য,লঞ্চের প্রথম শ্রেণী (কেবিন) ও দ্বিতীয় শ্রেণীর (সোফা) টিকিট অগ্রিম বিক্রি করা হয়। তৃতীয় শ্রেণী (ডেক) যাত্রীদের টিকিট লঞ্চের ভিতরে সংগ্রহ করতে হয়।
ঢাকা, এএম, ১৩ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এসআর





