বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের নতুন ভিডিও নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। ভিডিওটি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। নতুন ভিডিওটি বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের সিসিটিভিতে ধারণকৃত।

এতে দেখা যায়, বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে আহত করার পর স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি একাই রক্তাক্ত অবস্থায় রিফাতকে রিকশায় হাসপাতালে নিয়ে যান।

মিন্নিকে নিয়ে একের পর এক নাটকীয়তার জন্ম হচ্ছে। মিন্নি কি তার নববিবাহিত স্বামীর হত্যাকারী? মিন্নি কি তার স্বামীকে বাঁচাতে সন্ত্রাসীদের সাথে রীতিমতো যুদ্ধ করে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়েছেন? রিফাত হত্যায় মিন্নিকে জড়ানোর পেছনে কি কোনো প্রভাবশালী মহলের রহস্যজনক ইন্ধন রয়েছে?

পুলিশ প্রশাসন নিরপেক্ষ নাকি কোনো প্রভাবশালী মহলের স্বার্থ রক্ষায় ভূমিকা রেখেছে। বরগুনাসহ সারা দেশের সচেতন মানুষের মধ্যে এরকম হাজারো প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। এর মধ্যে বরগুনা হাসপাতালের ভাইরাল হওয়া নতুন ভিডিও ফুটেজ আবার নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

জেলখাটা মিন্নি দোষী নাকি নির্দোষ। মিন্নির শ্বশুরের সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্য এই ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে ফিকে হতে চলেছে। মিন্নির শ্বশুর দুলাল শরীফ ১৩ জুলাই বলেছিলেন, তার ছেলে রিফাতকে সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে জখম করার পর রিফাত নিজেই রিকশায় উঠে হাসপাতালে যান।

২৬ জুন সকালে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে প্রকাশ্যে রিফাতকে কোপানোর ঘটনায় ধারণ করা প্রথম ভিডিওটিতে দেখা যায়, রিফাতকে সন্ত্রাসীরা যখন কোপাচ্ছিল তখন স্বামীকে বাঁচাতে প্রাণপণ চেষ্টা করেছিলেন স্ত্রী মিন্নি। সন্ত্রাসীর সাথে যুদ্ধ করেও স্বামীকে বাঁচাতে পারলেন না স্ত্রী মিন্নি।

একই ঘটনায় প্রকাশিত দ্বিতীয় ভিডিওটিতে দেখা যায়, ঘটনার দিন যখন রিফাতকে কলেজ গেট থেকে ধরে পূর্ব দিকে নিয়ে যাচ্ছিল সন্ত্রাসীরা তখন সন্ত্রাসীদের পেছনে ছিলেন মিন্নি।

এই ভিডিও প্রকাশ পাওয়ার পর সন্দেহের জেরে গত ১৩ জুলাই সংবাদ সম্মেলন করে রিফাত হত্যায় মিন্নি জড়িত বলে অভিযোগ তোলেন রিফাতের বাবা। একই সাথে দ্বিতীয় ভিডিওর উদ্ধৃতি দেন মিন্নির শ্বশুর আ: হালিম দুলাল শরীফ। এরপরই ১৬ জুলাই জিজ্ঞাসাবাদের নামে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে মিন্নিকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

বহু নাটকীয়তার পর মিন্নিকে ৭ নম্বর আসামি করে রিফাত হত্যা মামলার চার্জশিট দেয় পুলিশ। ৩ সেপ্টেম্বর উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে বর্তমানে বাবার বাড়িতে আছেন তিনি।

রিফাত হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত হওয়ার পর কারামুক্ত হয়ে বরগুনার মাইঠা এলাকার বাবার বাসায় অবস্থান করলেও আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি মিন্নি।

এমআর