প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘দুর্নীতির দায়ে কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে নেলসন ম্যান্ডেলার সঙ্গে তুলনা করে ম্যান্ডেলাকেই অপমান করছে বিএনপি।

খালেদা জিয়ার সরকারের সময়ে শুধু হত্যা, খুন, দুর্নীতিই হয়েছে। তাঁর ছেলে আমাকে হত্যার জন্য গ্রেনেড বোমা হামলা করেছে। সেই খালেদা জিয়ার সঙ্গে ম্যান্ডেলার মতো স্বনামধন্য সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিদের সঙ্গে নাম উচ্চারণ কীভাবে করে সেটাই আমার প্রশ্ন।’

আজ শনিবার রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী যুবলীগের ৭ম জাতীয় কংগ্রেসের প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

খালেদা জিয়া পেয়ারে পাকিস্তানই পছন্দ করে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আসলে তারা স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। তারা এদেশের স্বাধীনতাই চায়নি। তাদের হৃদয়ে আছে পেয়ারে পাকিস্তান। খালেদা জিয়া পেয়ারে পাকিস্তানই পছন্দ করে। স্বাধীনতা পছন্দ করে না। যে কারণে তারা দেশের স্বাধীনতা আনতেও চায়নি, স্বাধীন করতেও চায়নি। এটাই বাস্তবতা।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি যুদ্ধাপরাধীদের পূর্নবাসনে কাজ করেছে। তারা দেশের স্বাধীনতা চায়নি। খালেদা জিয়াকে তার নেতাকর্মীরা নেলসন মেন্ডেলার সঙ্গে তুলনা করেন। কিন্তু নেলসন মেন্ডেলা তো দেশের জন্য কাজ করে জেলে গিয়েছিলেন। কিন্তু খালেদা জিয়া তো ক্ষমতার অপব্যবহার করে এতিমের টাকা চুরি করেছিলেন। নিকৃষ্ট কাজ করেছিলেন। তার সঙ্গে তো কৃর্তিমানের তুলনা হয় না।’

তিনি বলেন, ‘যুবসমাজ যেন দেশের কল্যাণে কাজ করে এবং এই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করে যাবে যুবলীগ। ১৯৭২ সালে শেখ ফজলুল হক মণি যখন যুবলীগ গড়ে তোলে এরপর থেকে যুবলীগ অনেক অবদান রেখেছে। যুবলীগকর্মী নূর হোসেন সামনে দাঁড়িয়ে শহীদ হয়েছেন।’

তিনি অরো বলেন, ‘ভোগে নয়, ত্যাগেই মহত্ব। কতটুকু দিতে পারলাম, কতটুকু মানুষের জন্য করতে পারলাম সেই চিন্তা থেকে দূরে থেকে যারা রাজনীতি করে তারা সফল। দুর্নীতি করে অনেক টাকা বানাতে পারে, ব্র্যান্ডের দামি দামি পোশাক পরা যায়, জীবনে চাকচিক্য আসে। কিন্তু তাতে সম্মান পাওয়া যায় না। মানুষের হৃদয়ও পাওয়া যায় না। এটাই হচ্ছে বাস্তবতা।’

লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে উঠে কীভাবে নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে রাজনীতি করতে হয় তা জানতে জাতির পিতার অসমাপ্ত আত্মজীবনী ও কারাগারের রোজনামচা পড়ার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর জাতির পিতার হত্যাকারীদের রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। জিয়াউর রহমান এবং এরশাদের পর যখন খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এলো, রাজাকারদের হাতে তুলে দেওয়া হলো শহীদদের রক্তে রঞ্জিত পতাকা।’

উল্লেখ্য, এবার জাতীয় কংগ্রেসে সভাপতিত্ব করবেন জাতীয় কংগ্রেস প্রস্তুতি আহ্বায়ক ও প্রেসিডিয়াম সদস্য চয়ন ইসলাম। পরিচালনা করবেন সদস্য সচিব ও সাধারণ সম্পাদক হারুন-অর-রশিদ।

তবে বর্তমান কমিটির যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীসহ বাকি বিতর্কিত নেতাদের সম্মেলন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

এএস