জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সাবেক সাংসদ অধ্যাপক মুজিবুর রহমান পুলিশকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, "যে বইগুলো দেখছি, সেগুলো না হয় ঠিক আছে। কিন্তু এই বোমাগুলো কোথা থেকে আসল?"
সোমবার বিকালে রাজধানীর পল্লবী থানার ১১ নাম্বার সেকশন ১০ নাম্বার রোডের ৪ নাম্বার বাসা থেকে আটক করা হয় খুলনা-৫ আসনের সাবেক সাংসদ মিয়া গোলাম পরোয়ার এবং রাজশাহী-১ আসনের সাংসদ অধ্যাপক মুজিবুর রহমানসহ জামায়াতের ১৩ নেতা-কর্মীকে।
একই দিন সন্ধ্যা সাতটার পর তাদেরকে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে হাজির করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া জামায়াতে ইসলামীর কিছু বই এবং কুরিয়ার সার্ভিসে নিয়ে আসা লাঠি, ক্যাশ মেমোসহ ২০টি তাজা বোমা টেবিলের উপর সাজিয়ে রাখা হয়। আটক হওয়া ওই নেতা-কর্মীদেরকে টেবিলের পিছনে দাঁড় করানো হয়।
তখন জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সাবেক রাজশাহী-১ আসনের সাংসদ অধ্যাপক মুজিবুর রহমান পুলিশের উদ্দেশ্যে বলেন, "এই বইগুলো, এই ক্যাশ মেমো সবই ঠিক আছে। কিন্তু এই বোমাগুলো কোথা থেকে আসল? এগুলো তো আমরা বুঝতে পারছি না।"
এ সময় ঢাকা মহানগর পুলিশের এক কর্মকর্তা মুজিবুর রহমানকে বলেন, আপনি এখন কোনো কথা বলবেন না। এগুলো আপনার বলার প্রয়োজন নেই। দয়া করে এখন আপনি কথা বলবেন না।
সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পশ্চিম বিভাগের উপকমিশনার মো. সাজ্জাদুর রহমান জানিয়েছেন, এই বোমাগুলোসহ তাদেরকে আটক করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, জামায়াতের ওই নেতা-কর্মীরা নাশকতার উদ্দেশ্যে গোপন বৈঠকে মিলিত হয়েছিল। তারা মূলত ঈদ উপলক্ষে গার্মেন্টস সেক্টরের শ্রমিকদের মধ্যে একটি গণ্ডগোল সৃষ্টির পরিকল্পনা করছিল। আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে জামায়াতের অঙ্গ সংগঠন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতিও রয়েছেন। মূলত তার নেতৃত্বেই এই বৈঠক হচ্ছিল।
আটককৃতদের মধ্যে গোলাম পরোয়ার ও মুজিবুর রহমান ছাড়া অন্যরা হলেন কাফরুল থানা জামায়াত সভাপতি মো. তসলিম, আবুল কালাম আজাদ, মো. মুনসুর রহমান, মো. জাকির হোসেন, মো. জাহাঙ্গীর আলম, এবিএম নুরুল্লাহ ওরফে মোহাম্মদ উল্লাহ, মো. আবুল হাশেম, মো. সাব্বির, মুজিবুর রহমান ভুঁইয়া, হারুনর রশিদ ও মো. আশরাফুল আলম ইকবাল।
উপকমিশনার বলেন, এর আগেও বিভিন্ন থানায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে নতুন করে নাশকতা ও বিস্ফোরক দ্রব্য মামলা দায়ের করা হবে।
এমআর/জেডআই





