সিলেটের শিশু রাজন ও হবিগঞ্জের বাহুবলে ৪ স্কুলছাত্রের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর এবার আরেক বর্বরোচিত, নির্মম ও পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায়।

উপজেলার তিনচটি গ্রামের জামাল (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে অপহরণ করে নিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যার পর এসিড দিয়ে লাশ ঝলসে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নিহত জামাল পেশায় বাবুর্চি ছিলেন। তিনি ঝিংগাবাড়ি ইউনিয়নের তিনচটি গ্রামের মৃত কালা মিয়ার ছেলে। হত্যাকারীরা জামালের মুখমণ্ডলসহ সারা শরীরে এসিড মেরে ঝলসে দিয়েছে এবং আঘাতে আঘাতে তার শরীর ক্ষতবিক্ষত করেছে।

গুম হওয়ার ৬ দিন পর শুক্রবার দুপুরে কানাইঘাট উপজেলার ঝিংগাবাড়ি ইউনিয়নের কাটলপুর হাওড় থেকে জামালের বিভৎস লাশ উদ্ধার করা হয়। জামাল গুম হওয়ার থেকে পুলিশের ভুমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করছে তার পরিবার ও এলাকার মানুষ।

জামালের পরিবার ও এলাকাবাসী বলছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের পুলিশ আড়াল করার চেষ্টা করছে। তাদের অভিযোগ, ১৪ ফেব্রুয়ারি জামাল আহমদ নিখোঁজ হন। নিখোঁজের পর তার পরিবারের পক্ষ থেকে কানাইঘাট থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। এসময় পুলিশকে মৌখিকভাবে সন্দেভাজন কয়েকজনের নাম উল্লেখ করলেও পুলিশের পক্ষ থেকে তেমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। আর লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ এসে জামালের স্ত্রী শহিনুর বেগম ওরুফে ছানুরে বেগমকে শুক্রবার রাতে থানায় নিয়ে মামলা দায়ের করান। আমাদের কাছে এটা রহস্যজনক মনে হচ্ছে।

পুলিশ এবং একটি প্রভাবশালী মহল জামাল হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা হারিছ, মইন ও কটিলকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জামালের চাচা মাইনুল ইসলাম মনু ও ভাতিজা জাবেদ ইকবাল বলেন, গত রোববার মিয়াগুল গ্রামের জহির উদ্দিনের ছেলে হারিছ, নুর আহমদের ছেলে মইন ও কটিল এই তিনজনে মুকিমগঞ্জ বাজার থেকে রাত ৯টায় জামালকে গানের আসরের কথা বলে সিএনজিতে করে নিয়ে যায়। তারা তাকে নিরিবিলি একটি হাওড়ে নিয়ে হত্যা করে।

তারা অভিযোগ করেন, জামালকে না পেয়ে আমরা থানায় একটি জিডি করেছিলাম। মৌখিকভাবে সন্দেহভাজনদের নাম বলেছিলাম যে, তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে জামালের খোঁজ পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু, পুলিশের পক্ষ থেকে আমরা কোনো প্রকার সহযোগিতা পায়নি।

জাবেদ ইকবাল বলেন, জামালের ফুফাতো ভাই আলীমুদ্দিনের সঙ্গে হারিসদের দ্বন্দ্ব ছিল। আলীমুদ্দিনকে ঘায়েল করতেই হারিছ তার লোকদের নিয়ে আমার চাচা জামালকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। তারা আমাকে চাচাকে শুধু হত্যাই করেনি। খুচিয়ে খুচিয়ে হত্যার পর এসিড দিয়ে লাশটি ঝলসে দিয়েছে।

এ ব্যাপারে কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্য হুমায়ুন আহমেদ বলেন, জামাল আহমদ নিখোঁজের পর থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করা হয়েছিল। পরে শুক্রবার লাশ উদ্ধারের পর নিহতের স্ত্রী ১৮ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। আসামিদের ধরতে পুলিশ তৎপর রয়েছে। তবে জামাল হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত আসামিদের আড়াল করার বিষয়ে তিনি বলেন, এ অভিযোগ সত্য নয়।

এমএম