বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার ১১৪ নং এসপি বারইখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকর্মী শিক্ষিকার সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগের তদন্ত চলাকালে তদন্তস্থলে গণরোষে পড়ে পালিয়ে গেলেন বরখাস্তকৃত প্রধান শিক্ষক ইসমাইল হোসেন।

সোমবার বিকেলে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) নাজমুল হুদা সরেজমিনে তদন্তে যাওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় শত শত লোক তদন্তস্থলে উপস্থিত হন। এসময় প্রধান শিক্ষক মিথ্যা স্বাক্ষী দেয়ার জন্য তার স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে তদন্তস্থলে যান। এতে উপস্থিত বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসীর রোষানলে পড়ে তদন্তে কোন সহযোগিতা না করেই স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়ে যান প্রধান শিক্ষক।

অভিযোগে জানা গেছে, ১৫ মে রোববার ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইসমাইল হোসেন তার বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ফারজানা রহমান বিথীকে কুপ্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হওয়ার এক পর্যায়ে প্রধান শিক্ষক মো. ইসমাইল হোসেন তাকে জাপটে ধরেন।

এ ঘটনায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের গঠিত দু’সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি ২১ মে ওই বিদ্যালয়ে তদন্তে গেলে প্রধান শিক্ষকের ভাড়াটে লোকজন তাদেরকে তদন্তে বাধা প্রদান করেন। তদন্ত কমিটি তদন্ত সম্পন্ন না করেই বিদ্যালয় ত্যাগ করতে বাধ্য হন।

ওই দিন সহকারি শিক্ষিকাতার নিরাপত্তা দাবি করে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে লিখিত ভাবে জানালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তদন্তের দায়িত্ব দেন সহকারি কমিশনার (ভূমি)মো. নাজমূল হুদাকে। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে সোমবার বিকেলে সরেজমিনে তদন্তে যান উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) নাজমুল হুদা।

এসময় ওই বিদ্যালয়ের দু’জন সহকারি শিক্ষকা ও ছাত্র-ছাত্রী অভিবাবকদের স্বাক্ষ্য গ্রহণ করেন। এ সময় তদন্তস্থলে উপস্থিত স্থানীয় শত শত লোক প্রধান শিক্ষক মো. ইসমাইল হোসেনের বিরুদ্ধে একাধিক নারী কেলেংকারির ফিরিস্তি তুলে ধরেন। অবস্থা বেগতিক দেখে প্রধান শিক্ষক ইসমাইল তদন্তে কোন সহযোগিতা না করেই তদন্তস্থল থেকে ছিটকে পরেন।

অপরদিকে এ ঘটনায় উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো.আনিসুর রহমান প্রধান শিক্ষক ইসমাইল হোসেনর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে সুপারিশ পাঠান। এর পরে উক্ত প্রধান শিক্ষক ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার জন্য বিভিন্ন দপ্তরে দৌড়ঝাঁপ করেন।

ইতোপূর্বেও তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের ভিত্তিতে তার দু’টি ইনক্রিমেন্ট কর্তন ও অপর একটি বিভাগীয় মামলা বিচারাধীন রয়েছে। কিন্তু বিষয়টি বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে।

এ ঘটনার ১০দিন পরে উপ-পরিচালক প্রাথমিক শিক্ষা, খুলনা, মো. গোলাম মোস্তফা (স্মারক নং-৬৩৭/৫, তারিখ-২৫/৫/১৬) অনৈতিক কর্মকাণ্ড, পূর্বপর অপরাধের জন্য তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা করেন।

এমআইএস