রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে পারাবাত এক্সপ্রেসে আগুনের ঘটনাটি দুর্ঘটনা নয় পরিকল্পিতভাবেই আগুন লাগানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। মূলত নিরাপত্তা ত্রুটির সুযোগ নিয়ে নাশকতাকারীরা ট্রেনের বগিতে দাহ্য পদার্থ ছড়িয়ে আগুন লাগিয়েছে।
এর কারণ হিসেবে তারা বলছেন, ওই বগিতে দাহ্য পদার্থ থাকার কথা নয়। কিন্তু আগুন যেভাবে দ্রুত ছড়িয়েছে এবং বগি যেভাবে ভষ্মিভূত হয়েছে তাতে সহজেই বোঝা যায় এটা নাশকতা।
প্রত্যক্ষদর্শীরাও জানিয়েছে, আগুন দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে।
রেলওয়ে পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, যেভাবে আগুন লেগেছে তাতে তারা নিশ্চিত এখানে কেউ নাশকতার উদ্দেশ্যে আগুন লাগিয়েছে। কেননা শর্টসার্কিট থেকে ওই বগিতে আগুন লাগার কোনো সম্ভাবনা নেই। তাছাড়া ওই বগিতে কোনো ধরনের দাহ্য পদার্থ ছিল না।
সূত্রটি জানায়, ট্রেনটি ধোয়ার জন্য স্টেশনে রাখা ছিল। সেখানে লোক সমাগম নেই বললেই চলে। ওই স্থানটিতে রেলওয়ে বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ওইভাবে পাহারায় থাকে না। এই সুযোগে নাশকতাকারীরা সেখানে আগুন লাগিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রেল কর্তৃপক্ষও মনে করছে, যারা নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল তাদের অবহেলার সুযোগে নাশকতাকারীরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে। এ কারণেই দায়িত্বে থাকা রেলওয়ে নিরাপত্তাবাহিনীর চার জনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।
অগ্নিকাণ্ডে পারাবত ট্রেনের ১৭৪৮ নম্বর বগিটি পুরোপুরি পুড়ে গেছে। পাশের একটি বগিও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মঙ্গলবার ৩টার দিকে ট্রেনে আগুন লাগে। এরপর ফায়ার সার্ভিস এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঢাকা রেলওয়ে থানা পুলিশ জানায়, ওই ট্রেনটি যাত্রীবাহী ট্রেন। এখানে কোনো ধরনের দাহ্য পদার্থ ছিল না। যদি দাহ্য পদার্থ না থাকে তবে এত দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ার কথা নয়।
রেলওয়ে থানার একজন উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, রেলওয়ে নাশকতা করা অনেক সহজ। বিশেষ করে জনবলের অভাবে নাশকতাকারীরা অনেক সময় সুযোগ নিয়ে থাকে। এমনকি পুলিশেরও জনবল একেবারেই কম। এর আগেও এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। গত বছর পারাবত এক্সপ্রেসেই অগ্নিকাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
তিনি আরও জানান, আগুনের ধরন দেখে নিশ্চিতভাবেই বলা যায় এটা দুর্ঘটনা নয়। পরিকল্পনা করে আগুন লাগানো হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছি। কোনোভাবেই আমার মনে হয়নি এটি দুর্ঘটনা। নিরাপত্তার দূর্বলতার সুযোগ নিয়ে এখানে কেউ আগুন লাগিয়েছে।’
ঢাকা রেলওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘যাত্রীবাহী ট্রেনে দাহ্য পদার্থ থাকার কোনো কারণ নেই। হঠাৎ করে ওই ট্রেনে আগুন লাগাটা রহস্যজনক।’
রেলওয়ে থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) আব্দুল মজিদ বলেন, ‘রেল কর্তৃপক্ষ এই ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তদন্তের আগে কোনো কিছুই বলা সম্ভব নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘তদন্ত কমিটির প্রধান বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. খলিলুর রহমান।’
কেএইচ





