একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসি কার্যকর হওয়া জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। রোববার সকাল সোয়া ৭টায় তাকে কবরে শুইয়ে দেওয়া হয়।
ফরিদপুরের পশ্চিম খাবাসপুর এলাকার আইডিয়াল ক্যাডেট মাদ্রাসা গেটের পাশে পারিবারিক কবর স্থানে দাফন করা হয় মুজাহিদকে।
এর আগে রোববার সকাল ৬টা ৫০ মিনিটে কঠোর নিরাপত্তায় তার জানাজার নামাজ পড়ানো হয়।
জানাজা পড়ান তার বড় ভাই আলী আফজাল মোহাম্মদ খালেফ। তবে নিরাপত্তার খাতিরে নিকটাত্মীয় ছাড়া জানাজায় অংশ নিতে দেওয়া হয়নি স্থানীয়দের।
রোববার সকাল সাড়ে ৬টায় মুজাহিদের লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স ফরিদপুরে পৌঁছায়।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে শনিবার দিবাগত রাত ২টা ৫০ মিনিটে মুজাহিদের লাশ নিয়ে রওনা হয় অ্যাম্বুলেন্স।
নিরাপদে মুজাহিদের লাশ পৌঁছে দেওয়ার নেতৃত্ব দিয়েছে র্যাব-৩। র্যাব-৩-এর তত্ত্বাবধায়নে পুলিশের দুটি ও র্যাবের দুটি গাড়ি মুজাহিদের লাশ পাহারা দিয়ে নিয়ে যায়।
এর আগে আমাদের মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে পদ্মা পার হয় মুজাহিদের লাশবাহী গাড়ি ফরিদপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে।
রাত ৪টা ৩৫ মিনিটের দিকে মানিকগঞ্জ শহর পার হয় মুজাহিদের লাশবাহী গাড়ি।
আমাদের সাভার প্রতিনিধি জানান, রাত পৌনে ৪টার দিকে সাভার অতিক্রম করে মুজাহিদের লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স ও পাহারায় থাকা পুলিশ-র্যাবের গাড়ি। মাকিনগঞ্জ হয়ে পাটুরিয়া ফেরিঘাটে পৌঁছায়। ফেরিঘাটে প্রস্তুত রাখা হয় একটি ফেরি। ফেরিযোগে পদ্মা নদী পার হয়ে দৌলতদিয়া ঘাট দিয়ে রাজবাড়ির মোড় হয়ে ফরিদপুরে পৌঁছায় মুজাহিদের মরদেহবাহী গাড়িবহর।
শনিবার দিবাগত রাত ১২টা ৫৫ মিনিটে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে সাকা চৌধুরী ও আলী আহসান মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। সাকার বাড়ি চট্টগ্রামে এবং মুজাহিদের বাড়ি ফরিদপুরে।
শনিবার দিবাগত রাতেই প্রস্তুত করা হয় মুজাহিদের কবর। দাফনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে স্থানীয় প্রশাসন। জানাজা শেষে তার লাশ দাফন করা হবে।
এদিকে ফাঁসি কার্যকরের আগে মুজাহিদের সঙ্গে শেষ বারের মতো সাক্ষাৎ করেন তার পরিবারের সদস্যরা। এরপর আইন ও রেওয়াজ অনুযায়ী কিছু প্রক্রিয়া শেষে মুজাহিদকে নেওয়া হয় ফাঁসির মঞ্চে।
এমআর





