রাজশাহীর পদ্মানদীতে বর-কনে নিয়ে দুইটি নৌকাডুবির ঘটনায় আজ পাঁচজনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ ও বিজিবি। এনিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ছয়।

শনিবার (০৭ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে দুর্ঘটনাস্থলের অদূরে তিনজনের লাশ পাওয়া যায়। এর আগে দুপুরে আরও দুই লাশ উদ্ধার করা হয়।

নৌকা দুটিতে ৪১ জন আরোহী ছিলেন। মর্মান্তিক এই নৌকাডুবিতে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে অন্তত ৩২ জনকে। এদের মধ্যে বর আসাদুজ্জামান ওরফে রুমন আলী (২৬), কনের বড়বোন বৃষ্টি খাতুন (২২), নৌকার মাঝি খাদিমুল ইসলাম (২৮), সুমন আলী (২৮) ও তার স্ত্রী নাসরিন বেগম (২২) এবং মেয়ে সুমনা আক্তার (৬)।

রাজশাহী নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মেহেদি মাসুদ জানান, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। তারা হলেন- নগরীর ডাঙ্গেরহাট এলাকার শামিম (৪৮) ও তাঁর মেয়ে রশ্মি (৭) এবং রতন আলী (৩০)।

এর আগে দুপুর ১টার দিকে একলাস আলী (২২) নামের একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলের পাশেই তাঁর লাশ ভেসে উঠে। আর সকালে চারঘাট এলাকা থেকে মনি খাতুন (৪০) নামের এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। সেই সঙ্গে ঘটনার দিন রাতে মরিয়ম নামের এক শিশুর লাশ পাওয়া যায়।

নিখোঁজদের সন্ধানে ফায়ার সার্ভিস, বিজিবি, নৌপুলিশ ও বিআইডব্লিউটিএর ডুবুরি দল যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের বরাত দিয়ে পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহাদাত হোসেন জানান, শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে প্রবল স্রোতের কারণে রাজশাহী মহানগরীর চরখিদিরপুর সংলগ্ন পদ্মা নদীতে বিয়ে বাড়ির যাত্রী থাকা দুটি নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে।

অনুসন্ধান ও উদ্ধার সমন্বয় কেন্দ্রের ফোকাল পয়েন্ট সালাহউদ্দিন আল ওয়াদুদ বলেন, সকাল থেকে যৌথ উদ্ধার অভিযান চলছে। দুপুরে দুর্ঘটনাকবলিত নৌকা দুটির অবস্থান নিশ্চিত হওয়া গেছে। উজান ও ভাটিতেও উদ্ধার তৎপরতা চলছে। তিনি বলেন, নৌকা দুটিতে ৪১ জন আরোহী ছিলেন। জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ৩২ জনকে। লাশ উদ্ধার হয়েছে ছয়জনের। এখনও নিখোঁজ কনেসহ তিনজন। নিখোঁজের স্বজনরা তাদের নাম-পরিচয় জমা দিয়েছেন।

এমবি