রাজশাহী অঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সামনে অভিযান চালিয়ে ১৭ দালালকে আটক করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। রোববার দুপুর ১টার দিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আলমগীর কবীরের নেতৃত্বে এই অভিযান চালায় র্যাব। পরে আটককৃতদের নিকট থেকে ২০০ টাকা করে জরিমানাসহ মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়।
আটক দালালরা হলো, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তাক হোসেন, শহিদুজ্জামান সোহেল, সুমন, আলমগীর শেখ, রিয়েল, শফিউল আলম, জামিরুল শেখ, ছানা, সৌরভ, শহিদুল ইসরাম, শিহাব, বাবুল মিঞা, মানিক শেখ, সাইদুল ইসলাম, আব্দুর রশিদ মিন্টু, হানিফ ও দুলাল হোসেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আলমগীর কবীর সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই পাসপোর্ট অফিসে আসা ব্যক্তিদের নিকট থেকে দালালরা দিনের পর দিন নানা অজুহাতে অর্থ আদায় করে যাচ্ছে। এমন অভিযোগের ভিত্তিতেই তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছে। তবে আবারও একই ধরণের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে এরপর তাদের বিরুদ্ধে বড় ধরণের অভিযান ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
পাসপোর্ট অফিসের উপপরিচালক মধুসূদন সরকারের কাছে উপসহকারী পরিচালক উত্তম কুমার দেসহ তাঁর আরও কয়েকজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে আবদেনকারীদের নিকট থেকে টাকা আদায় ও নানাভাবে হয়রানি অভিযোগ করেন অনেকে।
ইস্রাফিল নামের এক আবেদনকারী অভিযোগ করেন, উপসহকারী পরিচালক উত্তম কুমার দে তাঁর নিকট থেকে চারটি পাসপোর্টের জন্য ৬ হাজার টাকা আদায় করেছেন। ইস্রাফিলসহ তাঁর পরিবারের সদস্যদের জন্য ওই পাসপোর্টগুলো করতে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তিনটি পাসপোর্ট দেয়া হলেও এখনো একটি পাসপোর্ট তিনি পাননি। অথচ গত চার মাস আগে পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেন তিনি।’
এই ধরণের একের পর এক অভিযোগ করতে থাকেন আবেদনকারীরা। শেষে উপপরিচালক মধুসূদন সরকার সাংবাদিকদের বলেন, ‘এর আগেও বিভিন্ন সময়ে এই ধরনের অভিযোগ এসেছে। কখনো কখনো অভিযুক্তদের বিভিন্নভাবে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তবে এতসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়গুলো আরও ভালোভাবে তদন্ত করে এবার কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তবে উপসহকারী পরিচালক উত্তম কুমার দে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অর্থ আদায়ের অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, কোনো আবেদনকারীদের নিকট থেকেই আমি অর্থ আদায় করিনি। এর প্রমাণ কেউ দিতে পারবে না।’
অন্যদিকে আটক দালালরাও অভিযোগ করে বলেন, ‘টাকা না দিলে সাধারণ লোকদের পাসপোর্ট দিতে হয়রানি করে অফিসের কর্মকর্তারা। তাই আবেদনকারীদের নিকট থেকে এক হাজার ৫৫০টাকা আদায় করে উপপরিচালক উত্বতম কুমার দে’র কাছে এক হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে দেন তাঁরা। বাকি ৫০ টাকা করে দালালরা পকেটে রাখেন। আর আবেনদপত্র নির্ভূলভাবে পূরণ করার জন্য ২০০ টাকা করে নেন দালালরা। এইভাবে রাজশাহী পাসপোর্ট অফিসের কার্যক্রম চলে আসছে বলেও স্বীকার করেন দালালরা।
ঢাকা, ৩১ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই





