নড়াইলের কালিয়া উপজেলার কলাবাড়িয়া ইউপি নির্বাচনে পরাজিত এক ওয়ার্ড সদস্য পদপ্রার্থীর নেতৃত্বে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
কলাবাড়িয়া ইউপি’র নব নির্বাচিত ৯ নং ওয়ার্ড সদস্য ও নিধিপুর গ্রামের বাসিন্দা হাসমত আলী সহ আরোও অনেকে অভিযোগ করে জানান, প্রতিদ্বন্দ্বী ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী মফিজুর রহমানের নেতৃত্বে তার কর্মী সমর্থকেরা নিধিপুর গ্রামে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট চালিয়েছে।
হামলাকারীরা ইউপি সদস্য হাসমত আলী ও তার কর্মী সমর্থকদের মারপিট, বাড়ি ঘর ভাংচুর ও লুটপাট করেছে।
ইউপি সদস্য হাসমত আলী জানান, তার প্রতিপক্ষ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী একই গ্রামের মফিজুর রহমান নির্বাচনের আগে থেকেই তার সাথে শত্রুতা করে আসছে। বিনা কারণে ভোটের আগেই তার ওপর ও তার কর্মী সমর্থকের ওপর হামলা করে রক্তাক্ত জখম করে মফিজ ও তার সহযোগিরা। এ ঘটনায় মামলা করলে তারা আরোও ক্ষিপ্ত হয়। জামিন পেয়ে আবারও হামলা চালায় এবং বাড়ি ঘর ভাংচুর করে। এ ঘটনায়ও মামলা হয়। এসময় হাসমত ও তার লোকজনদের প্রায় অবরুদ্ধ করে রাখে প্রতিপক্ষ মফিজের লোকজন।
এরপর নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন হাসমত। এতে ঈর্ষান্বিত হয়ে হাসমতের বাড়ি গিয়ে তার ওপর ও তার পরিবারের অন্যান্যদের ওপর পুনরায় হামলা চালায় মফিজের লোকজন। হামলায় মারাত্মক আহত হন হাসমতের ভাই মাওলানা আবুল বাসার ও ভাতিজা রবিউল। তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিধিপুর গ্রামের ক্ষতিগ্রস্থ টুটুলের স্ত্রী লাইলা বেগম (৩০) অভিযোগ করে জানান, তাদের ঘর বাড়ি ও দোকান ভেঙ্গে তছনছ করে দিয়েছে এবং সবকিছু লুট করে নিয়ে গেছে। তাদের একটি গাভী, ৫ ব্যারেল ডিজেল, প্রায় ৫ ভরি স্বর্নালংকার, নগদ টাকা ও সংসারের সকল মালামাল নিয়ে গেছে। সন্ত্রাসীদের ভয়ে তার স্বামী বাড়ি ছাড়া।
একইভাবে অভিযোগ করেন এ গ্রামের তারা মোল্যার স্ত্রী শরিফা বেগম, তিনি জানান তাদের ও তার ভাসুর সিদ্দিক মোল্যার ঘর বাড়িতে ব্যাপক ভাংচুর চালিয়ে তাদের সকল মালামাল নিয়ে গেছে। এসময় মহিলাদের পর্যন্ত তারা মারপিট করেছে।
একইভাবে হামলাকারিরা হাসমতের কর্মী সমর্থক আসাদ মোল্যা, সোহরাব মোল্যা, দবির মোল্যা, লিয়াকত মোল্যা, শওকত মোল্যা, আল আমিন মোল্যা ও মোস্তইন মোল্যা সহ প্রায় ১৫টি ঘর বাড়ি ভাংচুর ও লুটপাট করে। হামলা ও ভাংচুর ঠেকাতে সেদিন নড়াগাতি থানা পুলিশ দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ পর্যন্ত করে।
এ ঘটনার পর হতে নির্বাচিত ইউপি সদস্য হাসমত আলী ও তার লোকজন এলাকা ছাড়া। সন্ত্রাসীদের অব্যাহত হুমকির মুখে ভয়ে তারা বাড়ি ফিরতে পারছে না।
নড়াগাতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমান জানান, এলাকায় পুলিশ টহল দিচ্ছে, মামলা গুলি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে বাড়ি ফিরে স্বাভাবিক জীবন যাত্রা পরিচালনার জন্য এবং লুটের মালামাল ফিরে পেতে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশুহস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ক্ষতিগ্রস্থরা।
এমআইএম





