দেশে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় বিভিন্ন সংগঠনের ডাকা-হরতাল অবরোধে ব্যবসায়িক ক্ষতি ছাড়াও রাষ্ট্রের রাজস্ব ঘাটতি দেখা দিয়েছে কয়েক হাজার কোটি টাকা আর ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হয়েছে প্রায় তার ১০ গুণ।

রংপুর অঞ্চলের অন্যতম রাষ্ট্রীয় সম্পদ বড় পুকুরিয়া কয়লা খনি যার উৎপাদন প্রায় ৫ মাস বন্ধ থাকে এতে রাজস্ব আদায়ে শোচনীয় অবস্থা দেখা দেয় রংপুর কর অঞ্চলে।

চলতি অর্থ বছরের ৯ মাসে কোটি টাকার কিছু বেশি রাজস্ব আদায়  হলেও বাকি তিন মাসে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে কি না তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। তবে কয়লা খনির উৎপাদন বন্ধ থাকাকে অন্যতম কারণ হিসেবে মানতে নারাজ কর কর্তৃপক্ষ ।

সংশ্লিষ্টদের দাবি কয়লা খনিটি গত বছরে যে, অগ্রীম রাজস্ব প্রদান করেছে তা এ বছর সমন্বয় করা হবে।

কর কমিশনারের কার্য়ালয় সূত্রে জানা গেছে, রংপুর কর অঞ্চরের অন্তর্গত রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, দিনাজপুর, পঞ্চগড় এবং ঠাকুরগাঁও জেলার ২২ টি সার্কেল এবং ২ টি কোম্পানীর অধীনে ২০১৪-১৫ অর্থ বছরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ৪’শ ৬২ কোটি টাকা। ৯ মাসে আদায় হয়েছে মাত্র ১’শ ১৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা। যা লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকের চেয়েও কম।

গত ২০১৩-১৪ কর বছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৩’শ কোটি টাকা। অর্জিত হয়েছে ৩’শ ২৬ কোটি ৮৪ লাখ টাকা।

পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৭ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আদায় হওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে শুধু বড় পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছিলো ১’শ ৫০ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।

কিন্তু ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে প্রায় ৫ মাস উৎপাদন বন্ধ থাকার পর গত বছরের ২৫ নভেম্বর পুনরায় চালু হয় বড় পুকুরিয়া কয়লা খনি। ফলে এ বছর ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কয়লা খনি থেকে রাজস্ব  আদায় হয়েছে মাত্র ৬৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকা।

সূত্র মতে, চলতি (২০১৪-১৫ ) অর্থ বছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত ৯ মাসে কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ২’শ ৪১ কোটি টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে মাত্র ১’শ ১৮ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।

গত অর্থ বছরে (২০১৩-১৪) জানুয়ারী এবং ফেব্রুয়ারি মাসে কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা যথাক্রমে ২৫ কোটি এবং ২০ কোটি টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে যথাক্রমে ১৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকা এবং ১৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।

কিন্তু রংপুর অঞ্চলের কর কমিশনারের কার্য়ালয়ের অতিরিক্ত কর কমিশনার (পরিদর্শী-১) আব্দুস শহীদ কবীর রাজস্ব কম অর্জিত হওয়ার জন্য বড় পুকুরিয়া কয়লা খনির উৎপাদন বন্ধ থাকাকে অন্যতম কারন হিসেবে মানতে নারাজ।

তার দাবি কয়লা খনিটি গত বছরে অগ্রীম রাজস্ব প্রদান করেছে যা এ বছর সমন্বয় করা হবে। এদিকে চলতি কর বছরে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে কি না জানতে চাইলে তিনি প্রশ্নটির সরাসরি উত্তর না দিয়ে বলেন এখনও কর বছর শেষ হতে আরো ২ মাস বাকি আছে ।

কর অফিস সূত্রে জানা গেছে রংপুর অঞ্চলে কোম্পানী করদাতার সংখ্যা হচ্ছে ২’শ ২৭ এবং ব্যক্তি করদাতাসহ অন্যান্য করদাতা হচ্ছে ১ লাখ ৯ হাজার ৬’শ ১৫ টি। প্রতি বছরে করদাতার সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে সুত্রটি নিশ্চিত করেছে। চলতি অর্থ বছরে এখন পর্যন্ত করদাতা বৃদ্ধি পেয়েছে ৬ হাজার ৮’শ ৩৯ টি।

এসএইচ