রাজধানীতে মানুষের কর্মব্যস্ততার শেষ নেই। তাতে কি রমজান যে এসেছে। ধর্মীয় ভাব-গাম্ভির্যে চলছে রোজা, ৫ ওয়াক্ত নামাজ, তারারি নামাজ আরও অনেক আমলের কাজ। রমজানের প্রস্তুতি হিসেবে মুসল্লীদের এখন ভিড় টুপি-জায়নামাজ-তসবির দোকানে।
নামাজে যাওয়ার অন্যতম অনুষঙ্গ টুপি-জায়নামাজ ও তসবি। নতুন টুপি-জায়নামাজ, তসবি আতর ছাড়া অনেকেই নামাজে আমেজ পাননা। তাই নামাজী মুসল্লীরা ভীড় জমিয়েছেন টুপি-জায়নামাজের দোকানে।
এসবের প্রধান মার্কেট হলো বায়তুল মোকাররম। তবে ফার্মগেট, শাহবাগ, মিরপুর, উত্তরা জামে মসজিদ, গুলিস্তান, মিটফোর্ড সুগন্ধি বাজার, নিউ মার্কেট, চকবাজারসহ বড় মসজিদগুলোর সামনে জমে উঠেছে টুপি-জায়নামাজের দোকান।
রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি, এলিফ্যান্ট রোড, ইস্টার্ন প্লাজা, নাভানা টাওয়ার ও মৌচাক মার্কেটের মতো অভিজাত মার্কেটগুলোতেও টুপি-জায়নামাজ-তসবি পাওয়া যাচ্ছে।
তাছাড়া রাজধানীর ফুটপাত জুড়েও রয়েছে আতর-টুপির দোকান। এছাড়াও রাজধানীতে অলিগলিতেও আতর টুপি পাওয়া যাচ্ছে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে ধর্মপ্রাণ মুসলমান ক্রেতাদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে দোকানিরা তাদের নিজেদের দোকান সাজিয়েছেন। বায়তুল মোকাররম মসজিদ মার্কেটের ব্যবসায়ী মাসুদুর রহমান জানান, রমজান ও ঈদ উপলক্ষে ৭ লাখ টাকার মূলধন খাটিয়েছেন তিনি। রমজানের শুরু থেকেই ভালো বেচাকেনার উদ্দেশ্যে এই মূলধন নিয়োগ। তবে ঈদে আরও বেশি ক্রেতা প্রত্যাশা করছেন তিনি।
রাজধানীর বসুন্ধরা সিটির ইজমাত শো’রুমে, পাওয়া যাচ্ছে হরেক রকম জায়নামাজ। ইজমাতে রয়েছে তুর্কি, সৌদি, পাকিস্থান, ইন্ডিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা জায়নামাজ। আর এসব জায়নামাজের দাম পড়বে ৩৫০ টাকা থেকে ৩৫০০ টাকা পর্যন্ত। বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এবার রমজান ও ঈদ উপলক্ষে বাজারে যেসব জায়নামাজ পাওয়া যাচ্ছে তার বেশির ভাগই বিদেশে তৈরি।
এবার পাকিস্তানে তৈরি কোকার জায়নামাজ ৪০০ থেকে ৬০০ টাকায়। জরির কাজ করা তুরস্কের আইরিন জায়নামাজ ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা এবং সিরিয়ার জায়নামাজের জন্য তিন হাজার টাকা পর্যন্ত দাম হাঁকছেন দোকানিরা।
এ ছাড়া একসঙ্গে তিনজন নামাজ পড়া যায়, তুরস্কে তৈরি এমন আকৃতির জায়নামাজের দাম চাওয়া হচ্ছে পাঁচ হাজার টাকা। কুষ্টিয়ার তৈরি জায়নামাজ ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে বলে জানালেন জায়নামাজ বিক্রেতারা। এ ছাড়া দেশে তৈরি গ্যাভার্ডিন কাপড়ের জায়নামাজগুলো বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১২০ টাকায়।
নামাজে নতুন টুপির কোন জুড়ি নেই। বাজার ঘুরে দেখা গেছে নতুন টুপির দোকানে ক্রেতাদের ভীড়। প্রতিটি নতুন টুপির দাম ২০০ টাকা থেকে শুরু করে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত রয়েছে। তবে বাজারে সবচেয়ে বেশি রয়েছে চীনার ও ওমানী টুপি। প্রতিটি টুপি ৫শ থেকে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। তবে মার্কেটে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় দেশের তৈরি টুপি।
আল ফারুকের তৈরি টুপি ৩০ টাকা থেকে শুরু করে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়ে থাকে। টুপি কিনতে আসা বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা আবুল মনসুর জানালেন, তিনি একটি টুপি কিনেছেন ৬০ টাকা দিয়ে। প্রতি রমজানেই তিনি নতুন টুপি কেনেন।
তসবিহ বিক্রিও অনেক ভাল হচ্ছে। ইন্ডিয়ান, চাইনিজ, পাকিস্তান, সৌদির তৈরি তসবিহ বাজারে বেশি বিক্রি হয়। এসব পাথরের তৈরি তসবির দাম ৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৩০০ টাকা রয়েছে। পাকিস্তানের কাঠের তৈরি তসবির দামও অনেক কম। প্লাস্টিকের পাশাপাশি কাঠ ও পাথরের তৈরি বিভিন্ন ধরনের তসবি পাওয়া যাচ্ছে দোকানগুলোতে। আকার ও উপাদান ভেদে দামেও পার্থক্য রয়েছে।
রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেটে আকিক পাথরের তৈরি তসবি ৪০০ থেকে ১২০০ টাকা, জমরুদ ৩০০ থেকে ৬০০, সোলেমানি পাথরের তসবি ৩০ থেকে ১৫০, ক্রিস্টালের তসবি ৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ঢাকা, জেইউ, ০১ জুলাই(টাইমনিউজবিডি.কম)//এসএইচ





