টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের করোনা আইসিইউ ওয়ার্ডে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

আজ বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও ওয়ার্ডের অক্সিজেন সরবরাহ লাইন ও বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

জেলার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। তাৎক্ষনিকভাবে সঠিক কারণ জানাতে না পারলেও বৈদ্যুতিক সর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে।

অগ্নিকান্ডের পর রোগীদের আইসিইউ থেকে বের করে অন্যত্র নিয়ে বিকল্প পদ্ধতিতে অক্সিজেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অগ্নিকান্ডের ঘটনায় হাসপাতালে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গণি, সিভিল সার্জন আবুল ফজল মো. সাহাবুদ্দিন খান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অগ্নিকান্ডে ওয়ার্ডসহ আশেপাশে প্রচুর ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। মানুষ আতঙ্কিত হয়ে দিগবিদিগ ছুটোছুটি করতে থাকে। রোগীর আত্মীয়-স্বজনরা রোগীদের বের করে আনার চেষ্টা করে। এসময় আশেপাশের এবং স্থানীয় লোকজন তাদের সহযোগিতা করে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম বলেন, আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে রোগীদের বের করতে সক্ষম হই। প্রচুর ধোঁয়া থাকলেও কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

তিনি আরও জানান, আইসিইউ ওয়ার্ডে বেশি পরিমাণ অক্সিজেন মজুত রাখা হয়। অগ্নিকান্ডের ক্ষেত্রে অক্সিজেনের একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। ওয়ার্ডের কোন বৈদ্যুতিক স্পর্কিংয়ের কারণে এই ঘটনা ঘটতে পারে।

সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মো. সাহাবুদ্দিন খান বলেন, আগুন লাগার সাথে সাথে আমরা নিজেদের ব্যবস্থাপনায় চেষ্টা করি আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে। পরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করে।

আমরা তাৎক্ষনিকভাবে রোগীদের অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে। বিকল্প ব্যবস্থায় রোগীদের অক্সিজেন দেওয়া হয়েছে। খুব দ্রুতই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে ওয়ার্ডটি চালু করা হবে।

টাংগাইল জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গণি বলেন, আপাতত সঠিক কারণ জানা না গেলেও মনে করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক সর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। এ ঘটনার তদন্তে ৭ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রতিনিধি, হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও), বিদ্যুৎ বিভাগের প্রতিনিধি, গণপূর্ত বিভাগের প্রতিনিধি এবং ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধি।

এ কমিটিকে আগামী ৩ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মীর সিয়াম/এইচএন