রংপুরে ইসলাম ধর্ম ও মহানবীকে (সাঃ) নিয়ে ফেসবুকে কটূক্তি ও অবমাননাকর ছবি পোস্ট করার অভিযোগে সংঘর্ষ, অগ্নি সংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শুক্রবার (১০ নভেম্বর) রাত ৮টায় রংপুর সার্কিট হাউস মিলনায়তনে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গাঁর উপস্থিতিতে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
এ সময় বিভাগীয় কমিশনার কাজী হাসান আহম্মেদ, পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি গোলাম ফারুক বিপিএম, পিপিএম, জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসক ওয়াহিদুজ্জামান জানান, এ ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু রাফা মোহাম্মদ আরিফকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল-এ) সাইফুর রহমান ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান।
কমিটিকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ ও তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে বলেও তিনি জানান।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী এ ঘটনায় জড়িত উস্কানিদাতাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার কথা জানান।
গত কাল শুক্রবার ইসলাম ধর্ম ও নবী সম্পর্কে ফেসবুকে অবমাননাকর পোস্ট দেয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে জনতার ও পুলিশের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ হয়েছে। রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে হামিদুল ইসলাম অজ্ঞাত’সহ ২ জন নিহত হয়েছে। ৫ পুলিশসহ আহত হয়েছে প্রায় ৬০ জন।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, গত ২৮শে অক্টোবর টিটু রায় নামে এক হিন্দু যুবক ‘এমডি টিটু’ নামের আইডিতে ইসলাম ধর্ম ও হযরত মুহম্মদ (সাঃ) সম্পর্কে অবমাননাকর উক্তি দিয়ে পোষ্ট দিলে এলাকাবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। পরবর্তীতে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করা হয়। এই ঘটনায় দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের তারাগঞ্জ সলেয়াশাহ এলাকায় বিক্ষুব্ধ মুসল্লী ও এলাকাবাসী মানববন্ধন কর্মসূচীও পালন করেছিলো।
কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ওই যুবকের শাস্তির দাবিতে আজ (শুক্রবার) বাদ জুম্মা সলেয়াসা বাজার এলাকায় বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেয়। জুম্মার নামাজের পর শত শত মানুষ সলেয়াসা বাজার এলাকায় জমায়েত হয় এবং মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকে। এসময় ওই সড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়ে অবরোধকারীদের রাস্তা ছেড়ে দেয়ার আহবান জানায়। এনিয়ে পুলিশের সঙ্গে অবরোধকারীদের কথা কাটাকাটি, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। এসময় সংঘর্ষ বেঁধে প্রায় ২ ঘন্টা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ চলে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শতাধিক রাউন্ড টিয়ার সেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষে টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপে আহত হয় ৬০ জন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরাতে গুলি, রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল ছোড়ে। কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়। আহতদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে ১জনের মৃত্যু হয়। তার নাম হাবিবুর রহমান। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এরপর আরো ১জনের মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করেছেন মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির টিএসআই গোলাম কিবরিয়া। আহতদের মধ্যে ৫ পুলিশ সদস্য রয়েছেন। এদের মধ্যে ৩ জনের নাম পাওয়া গেছে। এরা হলেন- সআই সেলিম মিয়া, কনসটেবল নাসির হোসেন, রফিকুল ইসলাম।
রংপুর মেডিকেলের ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. সুজন বলেন, এ পর্যন্ত হাসপাতালে ১৪ ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ ১১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
নিহতের স্বজন আজিমুল ইসলাম বলেন, হাবিবকে মৃত অবস্থায় পেয়ে ভর্তি করেনি হাসপাতালে কর্তৃপক্ষ। লাশ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেঝেয় পড়ে রয়েছে।
নিহত হাবিবের বোন আমেনা বেগম অভিযোগ করেন, পুলিশের গুলিতে তাঁর ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যে যুবক ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন তাঁর বাড়িসহ ৫টি হিন্দু বাড়িতে আগুন দেয় বিক্ষোভকারীরা। এ ছাড়া ১৪ থেকে ১৫টি বাড়ি ভাঙচুর করে তারা। অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পুলিশ ৩ যুবককে গ্রেফতার করেছে।
মুসল্লি আলিফ মিয়া ও রায়হান কবির জানান, আমরা নবীজী সম্পর্কে কটুক্তিকারির শাস্তির দাবিতে শান্তিপুর্ণ বিক্ষোভ করছিলাম। কিন্তু পুলিশ আমাদের উপর অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। এতে আমাদের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।
এমবি





