নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার মিঠাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক দেওয়ান এর বিরূদ্ধে শিক্ষার্থীদের উপ-বৃত্তির টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সোমবার (১৮ জুলাই) সারাদিন শিক্ষার্থী ও তাদের মায়েদের বসিয়ে রেখে সন্ধ্যা হতে টাকা দেয়া শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত টাকা দেয়া হয়।
অভিযোগকারিরা জানান, টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যেই ইচ্ছাকৃতভাবে দেরি করে রাতে টাকা দেয়া হয়। একই সাথে ৪ কিস্তি তথা ১২ মাসের টাকা আসে। সে হিসেবে প্রত্যেক মাসের ১শ টাকা হিসেবে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর ১২ শ টাকা করে পাওয়ার কথা। অথচ প্রধান শিক্ষক দেওয়ান অধিকাংশ শিক্ষার্থীর অভিভাবকের নিকট ২ কিস্তির টাকা অর্থাৎ ৬ শ টাকা ধরিয়ে দিয়ে বিদায় করে দেন। আবার কাউকে মাত্র ৩শ টাকা। সচেতন অভিভাবদের ৯শ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত দিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মোট ৪৭৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে উপ-বৃত্তির আওতায় রয়েছে ৪২৮ জন। এদের কাউকেই পূর্ণ টাকা দেননি।
এনিয়ে সোমবার (১৮ জুলাই) রাত ১২ টার দিকে স্থানীয়দের সাথে প্রধান শিক্ষক দেওয়ান এর বাক-বিতণ্ডা শুরু হয়। এসময় প্রধান শিক্ষককে অর্থ আত্মসাতে সহায়তাকারি লোহাগড়া কৃষি ব্যাংক শাখার কর্মকর্তা রাকিব, পলাশ কুমার,মিলন ও সুফিয়ানের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে সাধারণ জনগণ। রাত ১ টার দিকে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িতে রাখে।
এব্যাপারে খবর পেয়ে মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) সকালে লোহাগড়ার ইউএনও সেলিম রেজা ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে বাকি টাকা ফিরিয়ে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে উত্তেজিত জনতাদের শান্ত করেন। তাঁর নির্দেশে সহকারি উপজেলা শিক্ষা অফিসার মাকসুদুল হক মঙ্গলবার মিঠাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকে বাকি টাকা বিতরন করান।
এদিকে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন ব্যাংক কর্মকর্তাদের পুলিশ উদ্ধার করে ফাঁড়িতে নিয়ে গেলেও প্রধান শিক্ষক পালিয়ে যান। পরে তাকে আত্মসাৎকৃত ৫০ হাজার টাকাসহ বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনা হয়। এলাকাবাসীর চাপের মুখে তিনি টাকা বাকি টাকা বণ্টন করে দিতে রাজি হন।
এ বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি আবু সাঈদ বলেন, একজন প্রধান শিক্ষক যদি এভাবে শিক্ষার্থীর টাকা আত্মসাৎ করেন,তাহলে শিক্ষার্থীরা এদের কাছ থেকে কি শিখবে?
বিদ্যালয়ের বর্তমান সভাপতি শামসুল হক ক্ষোভের সাথে বলেন, এ ঘটনায় দ্রুত মিটিং ডেকে প্রধান শিক্ষকের বিরূদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অপরদিকে বিক্ষুব্ধ অভিভাবক লক্ষী রাণী বিশ্বাস জানান, তার ছেলে বিভাষ ৫ম শ্রেণিতে পড়ে তাকে তাকে মাত্র ৬ শ টাকা দেয়া হয়েছে। বাকি ৬শ টাকা দেয়া হয়নি।
একইভাবে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র ইমন এর মা শিল্পী, প্রসেঞ্জিত এর মা মৌসুমি সহ আরোও অনেকে জানান, তাদেরকে ৬শ করে টাকা দেয়া হয়েছে। বাকি টাকার দেয়া হয়নি।
এদিকে প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক দেওয়ান ও সহকারি উপজেলা শিক্ষা অফিসার মাকসুদুল হক জানান, একসাথে ৪ কিস্তির টাকা দিতে গিয়ে একটু সমস্যা হয়েছে।
মঙ্গলবার ( ১৯ জুলাই) সন্ধ্যার আগে শিক্ষার্থীদের টাকা বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।
এমআইএস





