সারাদেশে একের পর এক ধর্ষণের ঘটনায় মানুষ উদ্ভিগ্ন, বিষয়টি নিয়ে যখন হতাশা ও অতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। ঠিক এমন সময়ে খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলার “জালিয়াপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে” দপ্তরী কতৃক ৫ম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষনের অভিযোগ উঠেছে।
গত ২রা জুলাই স্কুল ছুটির পর ঘটনাটি ঘটে। তবে ঘটনার পর পরই ধর্ষন করা হয়েছে এমন অভিযোগ শোনা গেলেও পরবর্তীতে তা ধর্ষনের চেষ্টা করা হয়েছে বলে মামলার অভিযোগ পত্রে বলা হয়েছে। এদিকে ঘটনাটিকে ধামাচাপা দিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে এলাকার ক্ষমতাসীন প্রভাবশালীরা। এ ঘটনার পর অভিভাবকগন তাদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে সংকোচ বোধ করছেন। অভিভাবকরা বলছেন, যেখানে স্কুলের দপ্তরীর হাতে ছাত্রীরা নিরাপদ নয়, সেখানে বিদ্যালয়ে ছাত্রীদের পাঠানো কোনভাবেই যৌক্তিক হবে না।
স্থানীয়রা জানান, গত ২রা জুলাই রোজ রবিবার গুইমারা উপজেলার হাফছড়ি ইউনিয়নের জালিয়াপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর এক ছাত্রী বিদ্যালয় ছুটির পর বাসায় যাওয়ার পূর্বে বিদ্যালয়ের দপ্তরী/প্রহরী মোঃ আব্দুল জলিল (২৩) তাকে ক্লাসরুমে ডেকে নিয়ে দরজা-জানালা বন্ধ করতে বলে। তখন সে জানালা বন্ধ করার সময় একে একে সকল শিক্ষার্থী বিদ্যালয় ত্যাগ করে চলে গেলে বিকেল আনুমানিক ৪টা ১৫ ঘটিকার সময় পিছন থেকে জলিল তাকে জোর করে বেঞ্চের ওপর ফেলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে স্পর্স করে এবং জোর পূর্বক শ্লীলতাহানী করে। পরে মেয়েটি চিৎকার চেচামেচী করে কোন রকমে স্কুল থেকে পালিয়ে আসে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, অভিযুক্ত দপ্তরী আব্দুল জলিলের বয়স ২০/২২ বছর হলেও ইতিমধ্যই সে ২টি বিয়ে করেছে। এছাড়াও ইতিপূর্বে তার বিরুদ্ধে একাধিকবার বিভিন্ন মেয়েদের ইভটিজিং করার অভিযোগ রয়েছে। এরকম একজন দুশ্চরিত্র’কে কিভাবে স্কুল পরিচালনা কমিটি স্কুলের দপ্তরী পদে তাকে নিয়োগ দিয়েছে এমন হাজারো প্রশ্ন শোনা গেছে অভিভাবকদের মুখে। যেখানে শত শত কোমল মতি শিশুদের অবাধ বিচরন রয়েছে।
অভিযোগের সত্যতা জানতে মেয়েটির বাসায় গিয়ে দেখাযায়, হত-দরিদ্র পিতা-মাতার ২ সন্তানের মধ্যে ছোট মেয়ে সে। তার পিতা মানষিক ভারসাম্যহীন আর মা মানুষের বাসায় কাজ করে সংসার চালায়। মেয়েটির পরিবার এতটাই অসহায় যে, তারা জানেনা এ নেক্কারজনক ঘটনার বিচার কার কাছে চাইবে। প্রথমে স্থানীয় সমাজ কমিটি ও স্কুল কমিটির কাছে একখানা দরখাস্ত দিয়ে বিচার দাবি করেন মেয়ের মা।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, ঘটনার ২দিন পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় স্থানীয় ক্ষমতাসীন ও প্রভাবশালীরা ধর্ষিতার বাবা আসলাম হোসেন বকুল (প্রতিবন্ধী) হওয়ায় রাতের আধাঁরে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে এবং টাকার প্রলোভন দেখিয়ে উক্ত ঘটনাকে ধর্ষন নয়, ধর্ষেন চেষ্টা বলে চালিয়ে দেবার জন্য তার মা’কে বিভিন্ন ভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে।
ঔ রাতেই বিষয়টি জানতে পেরে তাৎক্ষনিক ভাবে মেয়েটির বাসায় যায় সিন্দুকছড়ি জোনের সেনা সদস্যরা। পরে গুইমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বি.এম মশিউর রহমান ও গুইমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সহযোগীতায় মেয়েটির মা বাদী হয়ে গত ৭ই জুলাই গুইমারা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
এবিষয়ে গুইমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ জোবায়রুল হক জানান, ঘটনার সাথে জড়িত আসামী জলিলকে ধরতে আমাদের সর্বচ্চ চেষ্টা অব্যহত আছে। তাকে ধরার জন্য পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনীও তৎপর রয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব তাকে গ্রেপ্তার করা হবে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ইন্দ্রানী দেবী জানান, দপ্তরি জলিলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসে মামলাটির কপিসহ লিখিত অভিযোগ প্রেরণ করা হবে।
গুইমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিএম মশিউর রহমান জানান, ঘটনাটি জানার পর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থাও গ্রহন করা হবে।
অন্যদিকে এ ঘটনার পর অভিভাবকগন তাদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে সংকোচ বোধ করছেন। তারা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় দোষী দপ্তরী আব্দুল জলিল এর যথাযথ শাস্তি দাবি করেছেন।





