রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নের বিকল্প নেই। বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি অর্জন ও স্থিতিশীলতা সংরক্ষণে কৃষির ভূমিকাই মূখ্য।
মঙ্গলবার দুপুরে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববদ্যিালয়ের (বাকৃবি) সপ্তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেন, বর্তমান সরকারের নিরলস প্রচেষ্টায় জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বৈরিতা মোকাবিলা করে খাদ্যশস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ আজ বিশ্বে একটি বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
২০২১ সালের মধ্যে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সংখ্যা শতকরা ১৫ ভাগে নামিয়ে এনে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করতে বর্তমান সরকার ‘রূপকল্প-২০২১’ ঘোষণা করেছে। এই ঘোষণায় অন্যান্য খাতের পাশাপাশি কৃষিখাতের ওপর সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নের বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, লবণাক্ত সহিষ্ণু ধান ও অন্যান্য ফসলের জাত উদ্ভাবনসহ কম সময়ে উৎপাদনশীল ফসলের জাত উদ্ভাবনে গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। মনে রাখতে হবে কৃষির উন্নয়নের ওপরই আমাদের সার্বিক উন্নয়ন নির্ভরশীল।
মো. আবদুল হামিদ বলেন, উচ্চতর কৃষি শিক্ষার পথিকৃৎ ও প্রধান বিদ্যাপীঠ হিসেবে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় তার শিক্ষা ও গবেষণায় বিশেষ যত্মবান। আপনারা জেনে আনন্দিত হবেন, হাওর ও চর উন্নয়ন ইনস্টিটিউট এবং কক্সবাজারে সামুদ্রিক মৎস্য বিজ্ঞান, মাঠ গবেষণা ও শিক্ষাকেন্দ্র স্থাপনের কাজ এগিয়ে চলছে। এগুলো নিঃসন্দেহে বাকৃবিরই গতিশীলতার পরিচয় বহন করে।
সমাবর্তন অনুষ্ঠানে শুরুতে রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর মো. আব্দুল হামিদ সমাবর্তনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববদ্যিালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. আলী আকবর। এরপর চ্যান্সেলর ২০১০ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১৪ সালের জুন পর্যন্ত চার হাজার নয়শ’ নয়জনকে ডিগ্রি প্রদান করেন।
এবারের সমাবর্তন বক্তা ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকেরর ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী, ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান। সমাবর্তনে বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ, অ্যাডভোকেট মোসলেম উদ্দিন এমপি, সালাউদ্দিন মুক্তি এমপি, ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার জি এম সালেহ উদ্দিন, ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ আলী, জেলা প্রশাসক মুস্তাকীম বিল্লাহ ফারুকী, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এআই





