জামায়াতের সিনিয়র সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের বাড়ি শেরপুর সদর উপজেলার বাজিতখিলা ইউনিয়নের কুমোরি মুদিপাড়া গ্রামে।
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে তার ফাঁসির রায় বহাল রাখার পর থেকে এই বাড়িতে দলে দলে আসছেন জামায়াত- বিএনপির নেতাকর্মীরা। আসছেন তার স্বজন, প্রতিবেশী এবং উৎসুক জনতাও।
এমনি একটি সময় বুধবার রাতে জাতীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরাও কামারুজ্জামানের বাড়িতে আসেন। বাড়ির উঠোনে বসেছিলেন কামারুজ্জামানের বড় ভাই স্থানীয় ব্যবসায়ী কফিল উদ্দিন।
যারা উপস্থিত রয়েছেন, তাদের মধ্যে হতাশা, ক্ষোভ কাজ করছে। সেই সঙ্গে সংবাদমাধ্যম নিয়ে ব্যঙ্গ-নিন্দা করছেন তারা।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ছোটভাই কামারুজ্জামানকে নির্দোষ দাবি করেন কফিল উদ্দিন।
তিনি বলেন, যুদ্ধের সময় শেরপুরে কামারুজ্জামানের পা পড়েনি। তখন সে ময়মনসিংহ শহরের নাসিরাবাদ কলেজে পড়াশুনা করতো ও ময়মনসিংহেই থাকতো।
তিনি বলেন, কেউ বলতে পারবে না সোহাগপুরের বিধবা পল্লীতে ১৯৭১ সালে নির্মম হত্যাযজ্ঞ কামারুজ্জামান ঘটিয়েছে। ওই সময় জায়গা সম্পত্তি ভোগ-দখল করতেই সমাজের প্রতাপশালী কিছু টাউট এ অপকর্ম করেছে। আর এতে নেতৃত্ব দিয়েছে বর্তমান মালয়েশিয়া প্রবাসী এক নরঘাতক। অথচ ওই ঘাতকের দায় চাপানো হয়েছে কামারুজ্জামানের ওপর।
কফিল উদ্দিন বলেন, আমার ভাই দোষী হলে তাকে শাস্তি দিলে কোনো আক্ষেপ থাকতো না। কিন্তু সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই আমার নিরাপরাধ ভাইকে ফাঁসি দেওয়া হচ্ছে। আমরা ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছি।
এ সময় কফিল উদ্দিনকে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কোনো কথা না বলতে কয়েকজন ব্যক্তি বার বার নিষেধ করেন। তবে কফিল উদ্দিন মনে করেন মিডিয়ার ওপর স্থানীয় এলাকাবাসী সংক্ষুব্ধ বলে এমন করেছেন।
তিনি বলেন, মৃত্যুদণ্ডের এ রায়ে এলাকার মানুষ ভীষণ ক্ষুব্ধ। তারা মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। কান্নাকাটি করছে।
কামারুজ্জামানের ছোট বোন আনোয়ারা খাতুন ঘরের দরজায় দাড়িয়ে উচ্চ স্বরে কাঁদছিলেন আর সাংবাদিকদের বলছিলেন, ‘ভাই! আপনারা একটু লেইখেন আমার ভাই নির্দোষ।’
কফিল উদ্দিন বলেন, মেঝো ছেলে ওয়াফির মাধ্যমে কামারুজ্জামান আমাদের সবাইকে দোয়া করতে বলেছে। সালাম জানিয়েছে।
কফিল উদ্দিন বলেন, যদি আল্লাহ মৃত্যুদণ্ডের পরিণতিই নির্ধারণ করে থাকেন, তবে পারিবারিকভাবে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, নিজগ্রামে কামারুজ্জামানের হাতেগড়া কুমুরি বাজিখিলা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা সংলগ্ন মসজিদের সামনে তার জানাজা হবে। ওর দুই ছেলে ওয়ামি ও ওয়াফি এতে মত দিয়েছে।
তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। রিভিউ আবেদনের পর এ নিয়ে আমরা আলাপ-আলোচনা করে স্থান নির্ধারণ করবো।
তিনি বলেন, কামারুজ্জামানের সঙ্গে তার দুই ছেলে এ নিয়ে জানাবে। ও যদি মা-বাবায়ের কবরের পাশেই শায়িত হতে চায়, তবে তাকে সেখানেই কবর দেওয়া হবে।
জেএ





