ভুর্তকি দিয়ে কৃষকের ধান সরাসরি ক্রয় করাসহ খাদ্য নিরাপত্তা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহবান জানিয়ে মানববন্ধন করে বিভিন্ন সংগঠন।
শনিবার (১৮মে) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সকাল ১১ টার দিকে যৌথ ব্যানারে এ মানববন্ধন করেন বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশন, বাংলাদেশ কিষাণি সভা, বাংলাদেশ ভূমিহীন সমিতি, খাদ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা অধিকার আন্দোলন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, এ বছর ফসল নিয়ে কৃষকের মধ্যে ভীষণ আশা-উৎসাহ ছিল। কিন্তু সাইক্লোন ফণী কৃষকদের সে আশা নিরাশায় পরিনত হয়েছে। উপকুল অঞ্চলে জনসাধারণ ও ঘর-বাড়ির যতটা না ক্ষতি সাধিত হয়ে তার চেয়ে বহুগুন বেশি ক্ষতি সাধিত হয়েছে উৎপাদিত ফসলের।
যেটুকু ফসল কৃষক রক্ষা করতে পেরেছে তা নিয়ে পড়েছে চরম বিপাকে । মনপ্রতি ধানের উৎপাদন খরচ পড়েছে ৮০০-৯০০ টাকা সে ধানের বর্তমান বাজার মূল্য রয়েছে মাত্র ৪০০-৫০০ টাকা। ফলে কৃষক চরম হতাশাগ্রস্থ ও কৃষি উৎপাদন বিমুখ হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে সরকার ঘােষিত ধার্যকৃত মন প্রতি ১০০০ টাকায় বিক্রির সুযােগ সাধারণ কৃষক পাচ্ছে না।
স্থানীয় দলবাজরা কৃষকদের কাছ থেকে কম দামে ধান কিনে কৃষি কার্ড ব্যবহার করে সরকারের ক্রয় ব্যবস্থা থেকে মনপ্রতি ১০০০ টাকা নিয়ে নিচ্ছে।
মানববন্ধনে আরও বলা হয়, অনেক কৃষক ফসল জমিতেই ফেলে রেখেছে কিংবা মনের কষ্টে মাঠেই আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে এ কৃষকের বিরুদ্ধে সার্টিফিকেট মামলা করে হয়রানী করা হচ্ছে।
ব্যাংকে গচ্ছিত জনগণের কোটি কোটি টাকা অসাধু ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদরা দেশের বাহিরে পাচার করছে। ঋণ খেলাপী হচ্ছে কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোন আইনী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।
তারা বলেন, দীর্ঘ মেয়াদে এ জাতীয় সমস্যা সমাধানে সরকারকেই একটি সুনির্দিষ্ট নীতি কাঠামাে তৈরী করতে হবে । দেশের প্রধান শস্য ধান, ধান উৎপাদনকারী কৃষক ক্ষতিগ্রস্থ হলে দেশের সকল ভােক্তার জন্য অশনি সংকেত । এক মণ ধান বিক্রির অর্থে একজন দৈনিক দিনমজুর কাজে পাওয়া যায় না।
কৃষকের অধিকার সংরক্ষণ করে জাতিসংঘ যে ঘােষণা দিয়েছে তাতে বাংলাদেশ সরকার একজন স্বাক্ষরকারী। সে অনুযায়ী কৃষক তথা কৃষি ক্ষেত্রে এ ধরনের পরিস্থিতি মােকাবেলা করে কৃষকের স্বার্থ রক্ষা করতে সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ ।
এ প্রেক্ষিতে মানবন্ধন থেকে কিছু দাবী উত্থাপন করা হয় :
১ । ধানসহ সকল কৃষিপণ্যের মূল্য নির্ধারণ করতে হবে ফসলের উৎপাদন খরচ বিবেচনা করে ।
২ । যে কৃষক মনের কষ্টে ক্ষেতের ধান আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে তাকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
৩ । কৃষকের ফসলের মুল্য নিশ্চিত করতে জাতীয় মুল্য কমিশন গঠন করতে হবে।
৪ । কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় জাতিসংঘ ঘােষিত সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে ।
৫ । কৃষি কার্ডের সুবিধা যাতে প্রকৃত কৃষকরা পায় তার ব্যবস্থা কতে হবে ।
৬ । সাইক্লোন ফণীতে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষককে উপযুক্ত সহযোগিতা করতে হবে ।
এসএম/এএস





