কক্সবাজার শহরতলীর দক্ষিণ কলাতলী এলাকায় আগুনে আবারও পুড়ে গেছে দুই শতাধিক একর বনাঞ্চল।
বুধবার বিকালে দরিয়ানগর বড়ছড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে স্থানীয় গ্রামবাসীর সহযোগিতায় বনকর্মীরা রাতে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। আগুন নেভাতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়ে কয়েকজন বনকর্মী আহত হয়েছেন। অগ্নিকাণ্ডে গাছপালা পুড়ে বনাঞ্চলের প্রায় কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বনকর্মীরা।
বন পাহারাদার আবদুল্লাহ সওদাগর জানান, বিকাল চারটার দিকে কে বা কারা কলাতলী বিটের বড়ছড়া গ্রাম সংলগ্ন বনাঞ্চলে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনের লেলিহান শিখা দ্রুত আশেপাশের বনাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রেঞ্জ কর্মকর্তা তাপস ও বিট অফিসার তৌহিদের নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক গ্রামবাসী মরণপণ চেষ্টা চালিয়ে রাত ১১টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এর আগেই দুই শতাধিক একর বনাঞ্চলের সমস্ত বৃক্ষ পুড়ে যায়। এসময় অগ্নিদগ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। তাদেরকে প্রাথমিক চিকিত্সা দেয়া হয়েছে।
বনকর্মীরা জানান, দুষ্কৃতকারীরা এর আগেও এ বনাঞ্চলে আগুন লাগিয়েছে। গত দুই মাসে এই ধরনের অন্তত ১০টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় ১ হাজার একর বনাঞ্চল ধ্বংস হয়ে গেছে।
এলাকাবাসী জানান, মূলত বনাঞ্চলের অভ্যন্তরে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা শন খোলার ঘেরের চালা তৈরিতে ব্যবহূত শন প্রক্রিয়াজাত করা হয় সেখানে। মালিকরা এমন ঘটনা ঘটাচ্ছে। শন খোলা হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার ভয়ে তারা এ কাজ করছে। এছাড়া এক শ্রেণীর দুষ্কৃতকারী বাগান থেকে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহের জন্য বনাঞ্চলের গাছ পুড়িয়ে দিচ্ছে। একের পর এক আগুনের ঘটনা ঘটলেও এ বিষয়ে বন বিভাগের পক্ষ থেকে কোন আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় দুষ্কৃতকারীরা আস্কারা পেয়ে যাচ্ছে বলে তাদের ধারণা।
কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা (ডিএফও) আবদুল আওয়াল সরকার ঘটনার কথা স্বীকার করে বলেন, এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, কক্সবাজার শহরতলী ছাড়াও জেলার অন্যান্য স্থানে এবং পাশের নাইক্ষ্যংছড়ি বনাঞ্চলেও নিয়মিত আগুন দিচ্ছে দুর্বৃত্তরা। আগুন নেভাতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়ে গত মঙ্গলবার মারা গেছেন উখিয়া উপজেলার দরগাহ পালং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নূরুল আমিন।
জেআই





