কুষ্টিয়ায় তিনদিনের কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে চার জনের মৃত্যু হয়েছে।
নিহতরা হলেন- কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আইলচারা ইউনিয়নের বাঘডাঙ্গা গ্রামের সোহরাব ফকিরের স্ত্রী নেহেরুন নেছা (৫০), আব্দালপুর ইউনিয়নের দর্গাপাড়া গ্রামের রাহেলা খাতুন (৭০), মিরপুর উপজেলার জিল্লুর রহমান (৩০), কুমারখালী উপজেলার সান্দিয়াড়া গ্রামের আতাউর ইসলাম আতা (৫৭)।
আহত হয়েছে অন্তত ২৫ জন। শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত কুষ্টিয়ায় কালবৈশাখী ঝড়ে হাজার হাজার বাড়ী ঘর, গাছপালা ও মাঠের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এসব এলাকায় বিদ্যুৎতের খুটি উপড়ে পড়াসহ তার ছিড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
সোমাবার ভোরের দিকে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার উজানগ্রাম, আব্দালপুর, দহকুলা, আইলচারা, করিমপুর, মিরপুর উপজেলার হালসা, আমবাড়িয়া, কুর্শা, ছাতিয়ান এবং কুমারখালী উপজেলার চাঁদপুর ও পান্টি ইউনিয়ন এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী এই কালবৈশাখী ঝড় ও ভারী শিলাবৃষ্টি হয়। এতে হাজার হাজার বাড়ি ঘর, গাছপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এসব এলাকায় বিদ্যুতের খুটি উপড়ে পড়াসহ তার ছিড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমাবার ভোরে কালবৈশাখী ঝড় শুরু হলে আইলচারা ইউনিয়নের বাঘডাঙ্গা গ্রামের সোহরাব ফকিরের স্ত্রী নেহেরুন নেছার শরীরের উপর ঘরের টিনের চালা ভেঙ্গে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। নেহেরুন নেছা এ সময় ঘরের মধ্যে ঘুমিয়ে ছিলেন।
অপরদিকে, ভোর চারটার দিকে আব্দালপুর ইউনিয়নের দর্গাপাড়া গ্রামের রাহেলা খাতুন (৭০) ঝড় শুরু হলে আতংকে মৃত্যু বরণ করেন। প্রচন্ড ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে কুষ্টিয় সদর উপজেলার আইলচারা, উজানগ্রাম, ঝাউদিয়া ছাড়া এ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে।
কয়েক শত কাচা ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। একই সাথে সহস্রাধিক হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়াও মিরপুর উপজেলায় ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক সৈয়দ বেলাল হোসেন ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করে জানান, ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণ করে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্থদের পূর্ণবাসনসহ সহায়তা প্রদান করা হবে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ নিরুপন করা যায়নি।
এমকে





