মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মতিউর নিজামী ও সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আসাদ উদ্দিনেকে ‘ফিরিয়ে দেওয়ার’ দাবি জানান তার স্ত্রী নাহিদ সুলতানা সুইটি।
শুক্রবার বিকালে সিরাজগঞ্জের একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ দাবি জানান।
নাহিদ অভিযোগ করেন, ঢাকা থেকে সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় যাওয়ার পথে বৃহস্পতিবার দুপুরে সয়দাবাদ এলাকায় পাঁচ/সাত জন লোক নিজেদের গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয় দিয়ে বাস থামিয়ে আসাদকে তুলে নিয়ে যায়।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী ন্যাশনাল ট্রাভেলসের (ঢাকা মেট্রো-ব ৮০৩১) একটি বাসে করে সলঙ্গা থানার নাইমুড়ীতে বাড়ি ফিরছিলেন আসাদ। দুপুর আড়াইটার দিকে বাসটি বঙ্গবন্ধু সেতু পেরিয়ে সদর উপজেলার সয়দাবাদে পৌঁছালে তাকে বাস থেকে নামিয়ে নেওয়া হয়।
“এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ নেই; তার মোবাইল ফোনটিও বন্ধ। বিভিন্ন থানায় খোঁজ নিয়েও তার সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।”
অবিলম্বে আসাদকে ‘জনসম্মুখে উপস্থিত করে’ পরিবারের কাছে সুস্থ অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান তার স্ত্রী।
নাহিদের ভাই মনিরুল ইসলাম মাসুদ, বোন শামীমা নাসরিন বিউটি, ছেলে সানিম উদ্দিন ও ভাবী রুপালী খাতুন এসময় উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও একই অভিযোগ তুলে সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে হয়রানি বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে।
জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুর রহমানের এক বিবৃতিতে বলা হয়, “মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল প্রদত্ত মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা আপিল নিষ্পত্তির দায়িত্বে নিয়োজিত অন্যতম আইনজীবী অ্যাডভোকেট আসাদ উদ্দিন আজ ঢাকা থেকে তার নিজ বাড়ি সিরাজগঞ্জে যাওয়ার পথে তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, “ওই অ্যাডভোকেটকে (আসাদ) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার একটি দল গ্রেপ্তার করেছে বলে সংবাদ পেয়েছি।”
তবে ডিএমপির উপকমিশনার মুনতাসিরুল ইসলাম বলেছেন, বিষয়টি তার জানা নেই।
এমআর





