বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণকে একটি বৈশ্বিক প্রাদুর্ভাব হিসাবে ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশের চলমান প্রস্তুতি এর সাথে সংগতিপূর্ণ। জনসাধারণের আতঙ্কিত না হতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, পরিবর্তনশীল বিশ্ব ও জাতীয় পরিস্থিতির আলোকে সর্বোচ্চ সতর্কতার অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য অধিদফতর কর্তৃক ‘সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮’-এর কতিপয় ধারা প্রয়োগ করার প্রয়োজন হতে পারে।
এই আইন অনুযায়ী স্বাস্থ্য অধিদফতরের অধিকারের মধ্যে রয়েছেঃ-
ধারা-১(চ) অনুসারে, বাসগৃহ, অন্যান্য গৃহ, ক্লিনিক, হাসপাতাল এবং রোগ নির্ণয় কেন্দ্র বা কোনো স্থাপনায় সংক্রামক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিকে সেবা প্রদান করলে বা অনুরূপ রোগে সংক্রমণের আধার হিসেবে বিবেচিত হলে উক্ত স্থান বা স্থাপনা পরিদর্শন ও তদনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে।
ধারা-১(জ) অনুসারে, সংক্রামক রোগের তথ্য রয়েছে এরূপ কোনো ব্যক্তিকে উক্ত রোগের বিষয়ে অধিদফতরের নিকট তথ্য প্রেরনের নির্দেশনা প্রদান করা যাবে।
ধারা-১(ট) অনুসারে সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়েছেন এরূপ কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট হাসপাতাল, অস্থায়ী হাসপাতাল, স্থাপনা বা গৃহে অন্তরীণ (কোয়ারেন্টাইন) রাখা বা পৃথককরণ (আইসোলেশন) করা যাবে।
ধারা-১(ত) অনুসারে, সংক্রামক রোগের বিস্তার রোধে উড়োজাহাজ, জাহাজ, জলযান, বাস, ট্রেন ও অন্যান্য যানবাহনের দেশে আগমণ, নির্গমণ বা দেশের অভ্যন্তরে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলাচল নিষিদ্ধকরণ করা যাবে।
সংশ্লিষ্ট অন্য ধারাগুলোতে রয়েছে :-
ধারা-১০ সংক্রামক রোগের তথ্য প্রদান প্রসঙ্গে। যদি কোনো চিকিৎসক সংক্রামক রোগে আক্রান্ত কোনো ব্যক্তির চিকিৎসার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন এবং উক্ত রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তি, কোনো বাসগৃহ, প্রাঙ্গন বা এলাকায় সংক্রামক রোগে অস্তিত্ব সম্পর্কে অবহিত হলে তিনি বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সিভিল সার্জনকে অবহিত করবেন; আবার যদি কোনো বোর্ডিং, আবাসিক হোটেল বা অস্থায়ী বাসস্থানের মালিক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির যুক্তিসংগত কারণে ধারণা হয় যে, উক্ত স্থানে বসবাসকারী কোনো ব্যক্তি সংক্রামক রোগে আংক্রান্ত হয়েছেন তাহলে তিনি অনতিবিলম্বে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সিভিল সার্জন এবং জেলা প্রশাসককে অবহিত করবেন।
ধারা-১১ সংক্রমিত এলাকা ঘোষনা, প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে। মহাপরিচালক বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মচারীর কাছে যদি প্রতীয়মান হয় যে, যথাযথভাবে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সংক্রামক রোগ সীমিত বা নির্মূল করা সম্ভব নয়, তাহলে তিনি সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শে বা সংক্রমিত স্থানে অন্য কোন ব্যক্তির প্রবেশ নিষিদ্ধ, সীমিত বা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।
ধারা-১৪ রোগাক্রান্ত ব্যক্তিকে সাময়িক বিছিন্নকরণ প্রসঙ্গে। যদি ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মচারীর এরূপ বিশ্বাস করার কারণ থাকে যে, কোনো সংক্রমিত ব্যক্তিকে বিচ্ছিন্ন করা না হলে তার মাধ্যমে অন্য কোনা ব্যক্তি সংক্রমিত হতে পারেন, তাহলে উক্ত ব্যক্তিকে সাময়িকভাবে অন্য কোনো স্থানে স্থানান্তর বা জন বিচ্ছিন্ন করা যাবে।
ধারা-১৮ যানবাহন জীবাণুমুক্তকরণের আদেশ প্রদানের ক্ষমতা প্রসঙ্গে। ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মচারীর নিকট যদি এরূপ বিশ্বাস করার যুক্তিসংগত কারণ থাকে যে, কোনো যানবাহন সংক্রামক জীবানু দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে বা তাতে সংক্রামক জীবাণুর উপস্থিতি রয়েছে তাহলে তিনি উক্ত যানবাহন জীবাণুমুক্তকরণের জন্য সেই গাড়ির মালিক বা সত্বাধিকারী বা তত্বাবধায়ককে নির্দেশ প্রদান করতে পারবেন।
ধারা-২০ মৃত দেহের সৎকার প্রসঙ্গে। যদি কোনো ব্যক্তি সংক্রামক রোগে মৃত্যুবরণ করেন বা করেছেন বলে সন্দেহ হলে উক্ত ব্যক্তির মৃতদেহ ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মচারীর নির্দেশনা মোতাবেক দাফন বা সৎকার করতে হবে।
ধারা-২৫ দায়িত্ব পালনে বাধা প্রদান ও নির্দেশ পালনে অসম্মতি জ্ঞাপনের অপরাধ ও দন্ড প্রদান প্রসঙ্গে। মহাপরিচালক, সিভিল সার্জন বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তার উপর অর্পিত কোনো দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বাধা প্রদান বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলের উদ্দেশ্যে মহাপরিচালক, সিভিল সার্জন বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কোনো নির্দেশ পালনে অসম্মতি জ্ঞাপন করলে তা দন্ডনীয় অপরাধ বলে গণ্য হবে। কোনো ব্যক্তি এই ধারার উপধারা এক এর অধীন কোনো অপরাধ সংঘটন করলে তিনি অনুর্দ্ধ তিন মাস কারাদন্ডে, বা অনুর্দ্ধ ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ডে, বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন।
ধারা-২৬ মিথ্যা বা ভূল তথ্য প্রদানের অপরাধ ও দন্ড প্রসঙ্গে। সংক্রামক রোগ সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা থাকা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বা ভুল তথ্য প্রদান করলে তা হবে একটি অপরাধ। যদি কোনো ব্যক্তি এই ধারার উপধারা ১ এর অধীন কোনো অপরাধ করলে তিনি অনুর্দ্ধ দুই মাস কারাদন্ডে, বা অনুর্দ্ধ ২৫ হাজার টাকা অর্থদন্ডে বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন।
ধারা-২৭ ফৌজদারী কার্যবিধির প্রয়োগ প্রসঙ্গে। এ আইনের অধীন সংঘটিত কোনো অপরাধের অভিযোগ দায়ের, তদন্ত, বিচার ও আপিল নিস্পত্তির ক্ষেত্রে ফৌজদারী কার্যবিধির বিধানাবলী প্রযোজ্য হবে।
স্বাস্থ্য অধিদফতর বলেছে, বিদেশ থেকে প্রত্যাগত কিছু প্রবাসী বা তাদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তি স্বাস্থ্য অধিদফতর কর্তৃক আরোপিত কোয়ারেন্টাইনের শর্ত সঠিকভাবে প্রতিপালন করছেন না। অনেকেই মিথ্যা তথ্য ও গুজব রটিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। স্বাস্থ্য অধিদফতর সংশ্লিষ্ট সকলকে বর্ণিত আইন অনুযায়ী এবং নির্দেশিত পন্থায় যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনের অনুরোধ জানাচ্ছে। ব্যত্যয়ের ক্ষেত্রে আইনের সংশ্লিষ্ট শাস্তিমূলক ধারা প্রয়োগ করা হবে।
এমআর





