রাজধানীতে অন্তত ৪৫-৫০টি অবৈধ বিদেশি পিস্তল বিক্রি করেছে তারেক আহমেদ অনিক নামে এক ডিস্ক জকি (ডিজে)। মাদক ব্যবসা সামলানোর জন্য অস্ত্র সংগ্রহ করতে গিয়ে অবৈধ অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন তিনি। অস্ত্র, চাঁদাবাজি, দেশি-বিদেশি মাদক, দেহ ব্যবসা, পানির ব্যবসা, নির্মাণ সামগ্রী সরবরাহে প্রভাব বিস্তার, বালুর গদি দখলসহ বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছিলেন অনিক।
রোববার রাতে রাজধানীর বাড্ডা থেকে চারটি বিদেশি পিস্তলসহ পাঁচজনকে আটক করে র্যাব-১। সোমবার সকালে গণমাধ্যমকে র্যাবের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। পরে দুপুর পৌনে ১২ টায় কাওরান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে অনিকের অপকর্মের বিষয় জানানো হয়।
র্যাব-১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তুহিন মোহাম্মদ মাসুদ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সোর্সের পরিচয়ে এলাকায় দীর্ঘ দিন নির্বিঘ্নে অস্ত্র ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপকর্ম করে যাচ্ছিল অনিক।
তিনি জানান, রোববার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আশুলিয়া ল্যান্ডিং পয়েন্টে একটি চেকপোস্ট বসিয়ে সন্দেহজনক ট্রাক-পিকআকে তল্লাশি করা হয়। এসময় নীল রঙের একটি পিকআপ (ঢাকা মেট্রো -ন-১৮-৭৯১৬) চেকপোস্টের সিগন্যাল অমান্য করে পালিয়ে যায়। র্যাবের গাড়ি তাদের ধাওয়া করে উত্তরার আব্দুল্লাহপুর খন্দকার পেট্রোল পাম্পের সামনে ফুটওভার ব্রিজ এলাকায় গতিরোধের পর সেটিকে আটক করা হয়।
পরে পিকআপ থেকে তিনজনকে আটক করা হয়। তারা হলেন মো. রুবেল শেখ (২৪), পিতা মো. আনসার শেখ, মো. সোহেল মোল্লা (২৪), পিতা মো. আলী হায়দার মোল্লা ও মো. বাহেস শেখ (৩২), পিতা মাদু শেখ। সবার বাড়ি মানিকগঞ্জের ঘিওর থানায়।
এসময় জিজ্ঞাসাবাদে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গাড়ির বামপাশের দরজার ভিতরে বিশেষ কৌশলে কালো টেপ দিয়ে পেঁচানো অবস্থায় ৪টি নতুন ৭ পয়েন্ট ছয় পাঁচ মি.মি. বিদেশি পিস্তল, ৩৮ রাউন্ড তাজাগুলি ও ৮টি ম্যাগজিন উদ্ধার করা হয়।
আটকরা স্বীকার করে, এই চালানটি উত্তর বাড্ডার তারেক আহমেদ অনিক এবং তার সহযোগী আব্বাসের কাছে হস্তান্তর করার কথা ছিল।
র্যাব সিও জানান, তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব দ্বিতীয় দফায় অভিযানে নামে। অভিযানের সময় মূল হোতা তারেক আহমেদ অনিক ও তার সহযোগী বাদশা পালিয়ে যায়। এসময় একটি মোটরসাইকেলসহ অপর সহযোগী মো. আব্বাস মিয়া (২৫), পিতা মো. আজিজুল ইসলাম, থানা- বেগমগঞ্জ, জেলা- নোয়াখালী ও মো. আরিফুল ইসলাম আরিফ ওরফে পানি আরিফ, থানা-রাজাপুরর, জেলা- ঝালকাঠি কে আটক করে। এরা উভয়েই অনিকের সহযোগী এবং বাড্ডা এলাকায় বসবাস করত।
তুহিন মোহাম্মদ মাসুদ জানান, অস্ত্র চালানের মূল হোতা পলাতক অনিক, পিতা আবু তাহের আহমেদ উত্তর বাড্ডার জিএম বাড়ির সচ্ছল পরিবারের সন্তান। সে ঢাকার মানারাত স্কুলের সাবেক ছাত্র এবং পেশায় ডিজে। এই পেশায় জড়ানোর সুবাদে সে মাদক ও বিভিন্ন নারীর সান্নিধ্যে আসে।
এমনকি মাদকাসক্ত হওয়ার পর এক সময় সে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পারে। অল্প সময়ে সে ঐ এলাকার মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে। এজন্য তার অস্ত্রের প্রয়োজন দেখা দেয়। অবৈধ অস্ত্র সংগ্রহ করতে গিয়ে পরিচয় ঘটে অস্ত্র ব্যবসায়ীদের সঙ্গে। ধীরে ধীরে মাদক ব্যবসার পাশাপাশি অস্ত্র ব্যবসায়ও জড়িয়ে পড়ে অনিক। এ অস্ত্রগুলো রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করে ঢাকায় আনা হতো বলে জানানো হয়।
পলাতক অনিকের ১৫ থেকে ২০ জন সহযোগী রয়েছে বলেও জানান এই র্যাব অধিনায়ক।
আটকদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়, এ পর্যন্ত অনিকের মাধ্যমে ৪৫ থেকে ৫০টি অবৈধ বিদেশি পিস্তল ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি হয়েছে। যার অধিকাংশের তালিকা হাতে এসেছে। তাদের আটকে অভিযান চলছে বলে র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
এমই





