রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবিপ্রবি) স্থাপনের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্নের তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার বাংলাদেশ সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শনকালে পাহাড়ী জেলাটিতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষা সম্প্রসারণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের এ নির্দেশনা দেন।
তিনি পরিকল্পিতভাবে প্রত্যেক জেলায় স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠায় প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য মাসিক বেতন প্রদান (এমপিও) নীতিমালা প্রণয়নের উপর গুরুত্বারোপ করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, আমরা প্রতিবছর অনেক স্কুল ও কলেজ এমপিওভুক্তির আবেদন পেয়ে থাকি। কিন্তু আমার মনে হয় প্রতি জেলায় কতটি স্কুল ও কলেজ এবং এসব প্রতিষ্ঠানে কতজন শিক্ষক দেয়া হবে এ সম্পর্কিত একটি নীতিমালা থাকা প্রয়োজন।
শেখ হাসিনা চলতি বছরের জানুয়ারিতে তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রত্যেক মন্ত্রণালয় পরিদর্শনের অংশ হিসেবে আজ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আসেন।
শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ প্রধানমন্ত্রীকে মন্ত্রণালয়ে স্বাগত জানান। এ সময় শিক্ষা সচিব মুহাম্মদ সাদিক ও মন্ত্রণালয়টির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, তাঁর সরকার শিক্ষাখাতে ব্যয়কে বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করে। এ জন্য স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনে সব ধরনের সহায়তা দেয়া হবে। তবে শিক্ষার উন্নয়নে এই অর্থ অবশ্যই একটি নিয়ম ও কাঠামোর মধ্যে ব্যয় হওযা প্রয়োজন।
শেখ হাসিনা পাহাড়ী জেলাগুলোর যাতায়াতে অসুবিধা এমন প্রত্যন্ত এলাকায় শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে আবাসিক স্কুল প্রতিষ্ঠার এবং চরাঞ্চলের ছেলে-মেয়েদের জন্য শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টির উপর গুরুত্বারোপ করেন।
রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণ কাজ বিলম্ব হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অন্যান্য ১১টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সম্পূর্ণ আবাসিকভাবে এটি স্থাপনের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছিল।
ভুটান সরকারকে এই বিশ্ববিদ্যায়টির নকশা প্রণয়নের জন্য একজন আর্কিটেক্ট দিয়ে সহায়তা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে এ কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এই প্রতিষ্ঠানটির স্থাপত্য নকশা সংশ্লিষ্ট এলাকায় পারিমান্ডলিক সৌন্দর্যের সাথে সঙ্গতি রেখে দৃষ্টিনন্দন করে প্রণয়ন করা প্রয়োজন এবং এটি দেশের একটি আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হবে।
তিনি বলেন তাঁর সরকার চরাঞ্চলের গৃহহীন মানুষের জন্য আবাসন সুবিধা দেয়ার পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে এসব এলাকার ছেলে-মেয়েদের জন্য শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টির উপরও গুরুত্ব দিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের সকল জাতীয় অর্জনে ছাত্রসমাজের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে। এ জন্য তাদের সুষ্ঠু বিকাশে একটি আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষা নীতি প্রণয়ন আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। ৯৯৬ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর এ লক্ষ্যে আমরা কাজ শুরু করি। কিন্তু ২০০১ সালে ক্ষমতার পরিবর্তনের কারণে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, জাতির ভবিষ্যত প্রজন্মকে গড়ে তুলতে দেশে দীর্ঘদিন কোনো শিক্ষা নীতি ছিলো না। বঙ্গবন্ধু শিক্ষা নীতি প্রণয়নের জন্য কুদরত-ই-খুদার নেতৃত্বে একটি কমিশন গঠন করেছিলেন। কিন্তু তাঁর নৃশংস হত্যাকা-ের পর এই রিপোর্ট বাস্তবায়িত হয়নি।
শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ দ্বিতীয়বার সরকার গঠনের পর এ ব্যাপারে পরিকল্পনা গ্রহণ করে সর্বপ্রথম একটি শিক্ষা নীতি প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়। এর ফলশ্রুতিতে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ২০১০ সালে একটি শিক্ষানীতি প্রণীত হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার পর মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে দেশ গড়তে চেয়েছিলেন। আমরা তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে চাই। বঙ্গবন্ধুর এ স্বপ্ন বাস্তবায়নের অন্যতম উপকরণ হচ্ছে শিক্ষা।
ঢাকা, ৩১ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, জেডআই





