একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর আওয়ামী লীগ সরকারের এক বছর পূর্তি আজ ৭ জানুয়ারি। এ উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বলেন, বর্তমান সরকারের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ভাষণ দেবেন।
প্রধানমন্ত্রীর ভাষণটি বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার ও বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও রেডিও স্টেশনগুলো সম্প্রচার করবে।
২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ভূমিধস বিজয় অর্জন করলে শেখ হাসিনা ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি একটানা তৃতীয় মেয়াদ এবং চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।
এদিকে টানা তৃতীয় মেয়াদের প্রথম বছরটি রাজনৈতিক উত্তাপ ছাড়া পার করেছে সরকার। বিশ্লেষকরা বলছেন, আর্থিক উন্নতি ও প্রবৃদ্ধি বাড়লেও ব্যবস্থাপনার ত্রুটি রয়েছে অর্থনীতিতে। সেই সঙ্গে নতুন বছরে দুর্নীতি দমন করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার চ্যালেঞ্জ থাকছে সরকারের সামনে।
টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবচেয়ে বড় চমক দেন মন্ত্রিসভায়। আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলীয় জোটের তারকা সিনিয়র নেতাদের বাদ দিয়ে মন্ত্রিসভায় স্থান পায় অপরিচিত নতুন মুখ। কয়েকজন বাদে মন্ত্রিসভার অধিকাংশই প্রথম বারেরমতো মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। এমন পরিবর্তন সারা দেশের মানুষকে শুধু অবাকই করেনি, ব্যাপারটি ইতিবাচকভাবেও গ্রহণ করে। এতে বেড়ে যায় প্রত্যাশার ঝুলিও।
দিন মাস গড়াতে থাকলে অনেক মন্ত্রী যেমন কাজের জন্য প্রশংসিত হয়েছেন আবার অনেকেই পড়েন সমালোচনায়।
বছরের সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি আসে সারা দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিলে। ঠিক তখন খোদ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর জাহিদ মালেকের বিদেশ সফর বিব্রত করে সরকারকে। তা ছাড়া পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি আর বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির মন্তব্যে সমালোচনার ঝড় ওঠে সারা দেশে।
বছরের শেষভাগে বড় চমক ছিল দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান। ক্যাসিনো বন্ধ করে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় নেওয়ার ঘটনা প্রশংসা পায় দেশবাসীর। এসব নিয়েই সরকার পার করল প্রথম বছর।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও বিশ্লেষক অধ্যাপক রওনক জাহান বলেন, আমরা যদি অর্থনৈতিক ব্যাপারটা দেখি তাহলে একদিক থেকে আমাদের কাছে কিছু ভালো খবর আছে। জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার ভালো, ৮ শতাংশ। মাথাপিছু আয় বেড়েছে। রেমিট্যান্সও বেড়েছে। কিন্তু অন্যদিকে মানুষ যেটা দেখতে পাচ্ছে, তার সঙ্গে বৈষম্য অনেক বেড়ে গেছে। অতএব এটা একটা চ্যালেঞ্জের ব্যাপার।
সব কিছুতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার দিকে তাকিয়ে না থেকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে সরকার সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।
ইতিহাসবিদ ও বিশ্লেষক অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশে একজন ব্যক্তি এবং একটি প্রতিষ্ঠান কাজ করে। ব্যক্তিটি হচ্ছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, প্রতিষ্ঠানটি হচ্ছে আদালত। আর কেউ কিছু করে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে নিশ্চিত করতে হবে যেহেতু তিনি সরকারপ্রধান সব প্রতিষ্ঠানের সব ব্যক্তি যেন কাজ করে। সবাই কাজ না করলে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ হবে না।’
এমআর





