অস্ত্র হাতে অপরাধ নির্মুলের পাশাপাপাশি পরিচ্ছন্ন চট্টগ্রাম গড়তে সচেতনতামূলক কর্মসূচি নিয়ে ঝাড়ু হাতে মাঠে নেমেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)।

চট্টগ্রামের নবাগত পুলিশ কমিশনার আবদুল জলিল মন্ডলের বিশেষ উদ্যোগে জনসাধারনের মধ্যে শহর পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যাপারে সচেতন করতে শুক্রবার চট্টগ্রাম মহানগরীর বেশ কিছু এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নামে প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য।

সিএমপি কমিশনার আবদুল জলিল মন্ডল নিজ হাতে ঝাড়ু ও বেলচা নিয়ে সড়ক ঝাড়ু দেয়ার পাশাপাশি ডাস্টবিলে ময়লা তুলে দেন। পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে সিএমপি বিভিন্ন পর্যায়ের উর্ধ্বেতন কর্মকর্তারা এই ব্যতিক্রমী সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে রীতিমত নগরবাসীকে তাক লাগিয়ে দেন।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ সংলগ্ন ওয়াসার মোড় এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযানের সূচনা করেন সিএমপি কমিশনার আবদুল জলিল মন্ডল। এই সময় সহস্রাধীক নারী ও পুরুষ পুলিশ সদস্য নগরীর এমএম আলী রোড, আলমাস মোড়, মেহেদীবাগ সড়ক, ওয়াসার মোড়, জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদ সংলগ্ন সড়ক, লালখান বাজার পর্যন্ত সড়কে যাবতীয় ময়লা আবর্জনা ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার করেন এবং ডাস্টবিনের বাইরে থাকা ময়লা বেলচা দিয়ে ডাস্টবিনে তুলে দেন। এই সময় শত শত মানুষের পুলিশের এই পরিচ্ছন্ন অভিযান প্রত্যক্ষ করেন।

এ প্রসঙ্গে সিএমপি কমিশনার আবদুল জলিল মন্ডল জানান, চট্টগ্রাম মহানগরীকে অপরাধমুক্ত রাখার পাশাপাশি নগরবাসীকে সবদিক থেকে স্বস্থিতে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আমি চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। অস্ত্র হাতে অপরাধ নির্মুলের পাশাপাশি চট্টগ্রাম মহানগরীকে পরিচ্ছন্ন নগরী গড়তে সচেতনতামুলক কর্মসূচি হিসেবে ঝাড়ু হাতে পুলিশ সদস্যরা রাস্তায় নেমেছেন।

আবদুল জলিল মন্ডল বলেন, সবকিছু সিটি করপোরেশন কিংবা সরকারের ওপর দায়িত্ব চাপিয়ে দিলে চলে না। আমরা নিজেরা স্ব-উদ্যোগে আমাদের চারপাশে ছড়িয়ে থাকায় সামান্য ময়লা আবর্জনাও যদি পরিস্কার করি তাহলে আমাদের শহর অনেক পরিচ্ছন্ন থাকবে। পুলিশের এই কর্মসূচি দেখে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করাই এই উদ্যোগের মুল লক্ষ্য।

এদিকে সকাল থেকে নগর পুলিশের সহস্রাধিক পুলিশের ছয়টি দল বিভিন্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর সময় সাধারণ মানুষকে দারুণভাবে উৎসাহিত করে। অনেক সড়কে গাড়ি থামিয়ে পুলিশের এই প্রসংশনীয় উদ্যোগ প্রত্যক্ষ করেন।

জেআই