গত ১০ জুলাই সম্মেলনের মাধ্যমে যশোর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হওয়া রওশন ইকবাল শাহীকে সরাতে জোর চেষ্টা চালাচ্ছে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের একাংশ। ইতিমধ্যে তারা সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। শাহীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তিনি বিবাহিত। এছাড়া তিনি একই সংগঠনের কর্মী যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রিয়াদ হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি।

দাবি করা হচ্ছে, আওয়ামী লীগের হাই কমান্ড দুটি ব্যাপারে খুবই সিরিয়াস। একটি হচ্ছে ছাত্র নেতারা বিবাহিত না হওয়া, দুই খুনের অভিযুক্ত না হওয়া। যার দুটি গুনাবলিই আছে তার।

আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের এই নির্দেশনার প্রতিফলন বুধবারই ঘটেছে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সভায়। ওই সভায় সংগঠনের যেকোনো ইউনিটে পদধারী বিবাহিত নেতাদের ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের নির্দেশ দেন সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইন।

গত ১০ জুলাই যশোর জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই দিন বিকেলে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচনের জন্য ভোট হয়। সন্ধ্যার ঠিক আগে ফলাফল ঘোষণা করা হয় । এতে রওশন ইকবাল শাহী সভাপতি ও ছালছাবিল আহমেদ জিসান সাধারণ সম্পাদক পদে জয়ী হয়েছেন বলে ঘোষণা দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ। ওই দিন রাত থেকেই শুরু হয় রওশন ইকবাল শাহীকে সংগঠন থেকে হটানোর প্রক্রিয়া।

আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের একাংশ যুক্তি হিসেবে তুলে ধরছেন, শাহী বিবাহিত। এছাড়া তিনি যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ কর্মী রিয়াদ হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি। নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ছালছাবিল আহমেদ জিসানও একই মামলার আসামি। তার ব্যাপারে অবশ্য 'বিদ্রোহী'রা অপেক্ষাকৃত নমনীয়।

আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের একাধিক নেতা জানান, তারা শাহীর বিয়ের কাবিননামা সংগ্রহ করে তা ঢাকায় প্রভাবশালী এক নেতার হাতে ধরিয়ে দিয়েছেন। ওই নেতা যশোরে ছাত্রলীগের কাউন্সিল তথা নেতৃত্ব নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি শাহীর বিয়ের কাবিননামা হাতে পেয়ে ছাত্রলীগ সভাপতি সোহাগকে ফোন করেন এবং তার কাছ থেকে সেটি সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন। এ সময় ওই নেতাকে স্পষ্টতই ক্ষুব্ধ দেখা যায়।

এর আগে যশোর আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এক নেতা দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে জেলা ছাত্রলীগের কাউন্সিল ও নেতৃত্ব নিয়ে অভিযোগ করেন। তিনি জানান, যশোরে কাউন্সিলের মাধ্যমে যে কমিটি হয়েছে, তা অগ্রহণযোগ্য। কাউন্সিলররা সবই ছিলেন দলের এক নেতার অনুগত। সেভাবেই সবকিছু ঠিকঠাক করে রাখা হয়েছিল। ফলে কাউন্সিলরদের ভোটের নামে যা হয়েছে, তা তামাশামাত্র। এছাড়া বিবাহিত কেউ ছাত্রলীগের কোনো পদে আসার যোগ্যতা হারান বলেও ওই নেতা নীতিনির্ধারকদের স্মরণ করিয়ে নেন। দলের হাইকমান্ড এসব কাহিনি শুনে রীতিমতো ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। যশোরে সম্মেলনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতারাও ভৎসনার শিকার হন। এই সব তথ্য নিশ্চিত করলেও আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সংশ্লিষ্ট তথ্যদাতাদের কেউ নাম প্রকাশ করতে চাইছেন না। তবে তারা সাংবাদিকদের এটি নিশ্চিত করেন যে, শাহী যশোর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিতে পারছেন না। কাউন্সিলে সভাপতি পদে তাকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু এখনো তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। তাকে সংগঠন থেকে সরিয়ে দেওয়া এখন শুধুই সময়ের ব্যাপার। শাহীর বদলে ইমরান হোসেনকে জেলা ছাত্রলীগের নতুন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে তারা আভাস দিয়েছেন। ইমরান হোসেন সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজের ছাত্র বলে জানিয়েছেন তারা।

কাউন্সিলর যেভাবেই নির্ধারিত হোক আর যারাই কাউন্সিলর হোন না কেন, রওশন ইকবাল শাহী ও ছালছাবিল আহমেদ জিসান আগামী টার্মের জন্য যশোর জেলা ছাত্রলীগের যথাক্রমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন- একথা তো সত্য। ফলে তাদের কাউকে নির্ধারিত দায়িত্ব নিতে বাধা প্রদান করলে বা সরে যেতে বাধ্য করা হলে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের প্রভাবশালী অংশটি বসে থাকবে- এমনটি কেউ ভাবছেন না। সে ক্ষেত্রে পরিস্থিতি সংঘাতপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা সংগঠনের সাধারণ কর্মীদের। এছাড়া নবনির্বাচিত সভাপতির বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষ ছাত্রসংগঠনের দুই কর্মীকে পিটিয়ে মারার ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে বলেও সূত্রের দাবি।

তারেক/জারিফ