প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “ফোর্সেস গোল-২০৩০” এর আলোকে বিমান বাহিনীকে একটি যুগোপযোগী, চৌকস বাহিনীতে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি।

শনিবার চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ঘাঁটি জহুরুল হক এর ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর রয়েছে গৌরবময় ইতিহাস। মুক্তিযুদ্ধে বিমান বাহিনীর সদস্যরা যুদ্ধের প্রয়োজনীয় উপকরণ ছাড়াই শুধু একটি এ্যালুয়েট হেলিকপ্টার, একটি ডিসি-৩ এবং একটি অটার বিমান নিয়ে দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে দুঃসাহসিক অভিযান পরিচালনা করেন। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর দুঃসাহসিক বৈমানিককেরাই প্রথম বাংলার আকাশ সীমানায় প্রবেশ করে শত্রুর স্থাপনার উপর সফলভাবে আঘাত হানে।

বাংলাদেশ বিমান বাহিনী একটিমাত্র এ্যালুয়েট হেলিকপ্টার ও অটার বিমানের সাহায্যে মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিকে চল্লিশটিরও বেশী সফল আক্রমণ পরিচালনা করে-যা ছিল আমাদের বৈমানিকদের অসাধারণ দক্ষতার নজির।

মহান মুক্তিযুদ্ধে বিমান বাহিনীর কর্মকর্তাগণ সেক্টর কমান্ডারের মত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করেছেন। বিমান বাহিনীর সদস্যদের এ সাহসিকতাপূর্ণ অবদান জাতি চিরদিন স্মরণ করবে বলেও উল্রেখ করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, ‘স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনের আগেই আমরা বিমান বাহিনীকে আরো আধুনিকায়নের মাধ্যমে শক্তিশালী ও কার্যকর বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হবো ইনশাআল্লাহ।’

চট্টগ্রাম শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ঘাঁটি জহুরুল হক দেশের দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলসহ সমুদ্রসীমার সার্বিক নিরাপত্তার প্রয়োজনে স্বাধীনতার পর স্থাপিত হয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার পর ঘাঁটিটির কার্যক্রম উদ্বোধন করেন । বিমান বাহিনীকে শক্তিশালীকরণে ও জাতির স্বার্থে এই ঘাঁটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর জহুরুল হক বিমান ঘাঁটির প্যারেড গ্রাউন্ডে একটি আকর্ষণীয় কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। গ্রুপ ক্যাপ্টেন সৈয়দ সায়েদুর রহমান কুচকাওয়াজ পরিচালনা করেন।

প্রধানমন্ত্রী প্যারেড গ্রাউন্ডে এসে পৌঁছালে বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার মার্শাল মোহাম্মদ এনামুল বারি, এনডিসি, পিএসসি এবং ঘাঁটির কমান্ডিং অফিসার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর তাকে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রী কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন। এ সময় জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয়।

কুচকাওয়াজকালে প্রধানমন্ত্রীকে ‘ন্যাশনাল স্যালুট’ প্রদান করা হয় এবং এ সময় তিনবার ‘চিয়ার আপ’ প্রতিধ্বনিত ও জাতীয় পতাকাবাহী হেলিকপ্টার পাস্ট পরিচালনা করা হয়।

এএইচ