বাংলাদেশ-ভারতের ১৬২টি ছিটমহলে আগামী ১ আগস্ট পর্যন্ত জমি ক্রয়-বিক্রয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বাংলাদেশ ও ভারতের প্রশাসন।

তবে ছিটমহল বিনিময় চূড়ান্ত হলে এসব ছিটমহলের বাসিন্দারা যদি অন্য দেশের নাগরিক হতে চায় তাহলে বর্তমান স্থানের জমিজমা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি সাপেক্ষে বিক্রি করে নগদ অর্থ যে দেশের নাগরিক হতে চায় সে দেশে নিয়ে যেতে পারবেন।

বাংলাদেশের পক্ষে ছিটমহল বিনিময় সমন্বয়কারী পরিষদের সভাপতি মো. মইনুল ইসলাম জমি ক্রয়-বিক্রয় সর্ম্পকে নিষেধাজ্ঞার কথা নিশ্চিত করেছেন।

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক ও যৌথ ছিটমহল জরিপ কাজের নেতৃত্বদানকারী খান মোহাম্মদ নুরুল আমীন জানান, গত ১৬ জুন কলকাতায় বাংলাদেশ ও ভারত জয়েন্ট বাউন্ডারি ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে ১ আগস্ট পর্যন্ত ছিটমহলের জমি ক্রয় বিক্রয় সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

৩০ নভেম্বর যৌথ জরিপের ফলাফলের ভিত্তিতে ছিটমহলবাসিদের পছন্দমত নাগরিকত্ব নেওয়া মানুষগুলো ছিটমহল ছেড়ে পছন্দের দেশে সরকারিভাবে চলে যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বাংলাদেশে সফরে এলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ছিটমহল বিনিময় ও সীমান্ত চুক্তি নিয়ে প্রটোকল স্বাক্ষরিত হয়। সেই সময় ছিটমহলের প্রকৃত অবস্থা জানতে দুই দেশের সরকার যৌথভাবে ছিটমহলে খানা জরিপ চালায়। এই যৌথ জরিপের চূড়ান্ত ফলাফল সেই সময় দুই দেশের প্রশাসন গ্রহণ করে। এবারে ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর মাসের যৌথ খানা জরিপের রিপোর্টকে ভিত্তি ধরেই চলছে এবারের জরিপ। গত ৬ জুলাই থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত উভয় দেশের ১৬২টি ছিটমহলে যৌথ খানা জরিপ চলবে।

আগামী ৩১ জুলাই মধ্যরাতে দুই দেশের মধ্যে ছিটমহল বিনিময় শুরু হবে। তাই পহেলা আগস্ট ছিটমহল নামের বন্দিশালা দুই দেশের মানচিত্র হতে মুছে যাবে। স্ব স্ব দেশের ভিতরে থাকা ছিটমহলগুলো সেই দেশের মূল ভূ-খন্ডে পরিণত হয়ে যাবে।

তবে বাংলাদেশের ভেতরে থাকা ছিটমহল থেকে যারা ভারতে যেতে চায়, আবার ভারতের ভেতরে থাকা ছিটমহল থেকে যারা বাংলাদেশে আসতে চায়, তারা ইতোমধ্যে নাগরিকত্ব পেতে যৌথ জরিপ দলের কাছে ফরম পূরণ করতে শুরু করেছেন।

তাদের দখলে থাকা জমি ও সম্পদ তারা নগদ অর্থে বিক্রি করে অর্থ নিজ নিজ পছন্দের নাগরিকত্ব পাওয়া দেশে নিয়ে যেতে পারবে। তবে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি প্রয়োজন হবে। আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারতের সরকার যৌথভাবে এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেয়। সূত্র: বাসস

এএইচ