নির্বাচন কমিশন চাইলেই ভোট জালিয়াতি বের করতে পারে বলে জানিয়েছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা আকবর আলি খান।  

শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর কাকরাইলে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমার একটি মিলনায়তনে আয়োজিত সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)’র সপ্তম জাতীয় সম্মেলনে তিনি এই কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন সুজন সভাপতি এম হাফিজ উদ্দিন খান, সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবু হেনা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলী খান, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডির চেয়ারম্যান ড. রেহমান সোবহান, রাষ্ট্র বিজ্ঞানী ড. রওনক জাহান, বাংলাদেশ হিন্দু- বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি প্রমুখ।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা আকবর আলি খান বলেন, জাতীয় নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৮১ শতাংশ আর ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে পড়েছে ৩০ শতাংশের কম। অথচ আমরা জানি, স্থানীয় নির্বাচনে ভোটের হার বেশি হয়।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন চাইলেই ভোট জালিয়াতি বের করতে পারে।

আকবর আলি খান বলেন, ২০ দফা সংস্কার প্রস্তাবের পরিবর্তে এক দফা দাবি তোলা দরকার, আর তা হলো সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা করা।

সুজনের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক সংস্কারে ২০ দফা প্রস্তাব তুলে ধরে সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়ন বন্ধ করতে হলে শুধু অভিযান চালালে হবে না, ব্যবস্থা বদলাতে হবে। সরকারের সব কার্যক্রম উন্মুক্ত করতে জনগণকেও সক্রিয় হতে হবে। প্রস্তাবিত সংস্কারের মধ্যে আছে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন, নির্বাচনী সংস্কার, কার্যকর জাতীয় সংসদ, স্বাধীন বিচার বিভাগ, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ইত্যাদি।

সাবেক মন্ত্রী পরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার, নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে পরিচ্ছন্ন করতে সুজন নানামুখী কার্যক্রম পরিচালনা করছে, এটিকে স্বাগত জানাই।

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশ গুপ্ত বলেন, সুজনের সংস্কার প্রস্তাব যথার্থ। এ আন্দোলনে সবার যুক্ত হওয়া প্রয়োজন। ভোট নিয়ে জনগণের অনাগ্রহ নিয়ে প্রধান দুই দলেরই কাজ করা উচিত।

আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে মাঠে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকী বলেন, দেশে নতুন ধরনের কর্তৃত্ববাদী স্বৈরাচারী ব্যবস্থা চলছে। এ ব্যবস্থায় গুরুত্ব দিয়ে সময় মতো এবং সবার অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করা হয়। কিন্তু বিরোধীদের জয়ের পথ রুদ্ধ করে দেওয়া হয়।

এমবি