রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানা ভবনের (৭ তলা) ছাদ থেকে পড়ে শাহ আলম সাগর (৪০) নামে এক সাংবাদিকের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় ৪ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হারুনুর রশিদ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
দায়েরকৃত মামলার আসামিরা হলেন, নজরুল ইসলাম (মিস্ত্রি), ট্রাস্ট কলেজের অধ্যক্ষ বশির আহমেদ ও তার সহযোগী জাহিদুল ইসলাম এবং আনিছুর রহমান।
নিহত শাহ আলম সাপ্তাহিক ‘অপরাধ দমন’ নামের একটি পত্রিকার প্রতিবেদক ছিলেন বলে উত্তরা পশ্চিম থানা সূত্রে জানা গেছে।
উত্তরা পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম টাইমনিউজবিডিকে মামলা দায়ের করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সব আসামি আটক রয়েছেন। সোমবার সকালে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মামলার তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা থানার ওসি (তদন্ত) আলী মাহমুদ জানান, রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ‘অপরাধ দমন’ নামের একটি সাপ্তাহিক পত্রিকার সাংবাদিক শাহ আলম ওরফে সাগর থানার ছাদ থেকে পড়ে মারা যান।
মামলার বাদী এসআই হারুনুর রশিদ বলেন, ট্রাস্ট কলেজের অধ্যক্ষ বশির আহমেদের নিকট টাকা পেতেন নজরুল মিস্ত্রি। দীর্ঘদিন এই টাকা না দেওয়ার কারণে নজরুল গত ২৩ ফেব্রুয়ারি থানায় একটি জিডি দায়ের করেন। এই ঘটনা নিয়ে নিহত সাংবাদিক শাহ আলম সাগর একটি খবর প্রকাশ করেন। এতে বশির আহমেদ ক্ষিপ্ত হন। পরবর্তীতে ঘটনা নিয়ে থানায় আসেন বশির আহমদসহ সাংবাদিক সাগর। এক পর্যায়ে সাগর থানায় একটি জিডি করেন। এ সময় তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এরই এক পর্যায়ে থানা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে মৃত্যু হয় শাহ আলমের।
তবে স্বজনদের দাবি, শাহ আলমকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে থানা ভবনের ছাদে ধাওয়া দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর সেখান থেকে ফেলে হত্যা করা হয় শাহ আলমকে। এ ঘটনার সাথে পুলিশের যোগসাজশ  ছিল বলেও নিহতের পরিবার দাবি তুলেছে।
এব্যাপারে নজরুল ইসলাম নামে নিহতের এক বন্ধুর দাবি, শাহ আলমকে থানা ভবনের ছাদ থেকে ফেলে দেয়া হয়েছে। পড়ে যাওয়ার সময় শাহ আলম বাঁচাও বাঁচাও বলে স্বজোরে চিৎকার করে। এসময় তিনি নিচে অবস্থান করছিলেন।
এব্যাপারে উত্তরা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার(এসি) সাইফুল্লাহ মোহাম্মদ জানান, টাকা পয়সা ও পত্রিকায় নিউজ সংক্রান্ত বিষয়ে ট্রাস্ট কলেজের অধ্যক্ষ বশির আহমেদের ও সাংবাদিক শাহ আলম থানায় এসেছিলেন। নিউজের জের ধরে উত্তরা ট্রাষ্ট কলেজের অধ্যক্ষ বশির আহমেদ চলতি মাসে উত্তরা পশ্চিম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এ প্রেক্ষিতে সাংবাদিক সাগরও জিডি করেন।
তবে শাহ আলম থানা ভবনের ছাদ থেকে কিভাবে পড়ে গেল তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায় নি। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঢাকা, জেইউ, ৩ মার্চ ( টাইমনিউজবিডি.কম ) //এসআর