তারেক আজিজ সোহাগ দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ালেখা শেষ করে ভালো একটি চাকরি করবেন সেই আশা ছিল নিজের ও তার পরিবারের কিন্তু সেই আশায় কালো ছায়া নেমে এলো তার মৃত্যু বার্তা। যেন কিছুতেই মেনে নেওয়ার মতো নয়। সন্তান ভালো উপার্জন করবে হাসি ফুটবে পরিবারে সবার মুখে।একমাত্র মেয়ের লেখাপড়ার খরচ নিয়েও ভাবতে হবে না তাদের।
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে এক কৃষক পরিবারের মঙ্গলবার বেলা ১২টা ৭ মিনিটে সেই স্বপ্ন ভেঙে গেল পরিবারটির।
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার একতারপুর গ্রাম। এ গ্রামের দরিদ্র পরিবারের ছেলে তারেক আজিজ সোহাগ। তাঁর বয়স হয়েছিল মাত্র ২৮ বছর। ২০১৩ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনশাস্ত্রে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। তাঁর বাবা আবদুল খালেক। মা সাদিয়া বেগম। বোন শারমীন জুথি যশোর এমএম কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স পড়েন।
বাবার দিনমজুরিতে সংসার চলে। চাচা হাফিজুর রহমান এইচএসসি পাস করে ব্যবসা করেন। দুই ফুপু জোবেদা খাতুন ও নিলুফার ইয়াসমীন এমএ পাস। তাঁরা শিক্ষকতা করেন। চাচাতো ভাই মাহমুদ হাসান জিছান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। অপর চাচাতো ভাই সাইফুল ইসলাম পলাশ এমএ পাস করে কালীগঞ্জ শহরে ব্যবসা করেন। দুই ফুপুর উৎসাহে একতারপুর মাধ্যমিক স্কুল থেকে এসএসসি পাস করার পরে সোহাগ যশোর ক্যান্টমেন্ট কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন।
এরপর প্রথমে ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজিতে ভর্তি হন। এর পরের বছর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শন শাস্ত্রে ভর্তি হন। হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হলের ৪৪৯ নম্বর রুমে শিক্ষাজীবন কাটে তাঁর।
গত ১০ই মার্চ বেলা ১১টার দিকে নিজ বাড়িতে কীটনাশক পান করেন সোহাগ। সেদিন দুপুরে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে ভর্তি করা হয় কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখান থেকে পরের দিন শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে নেওয়া হয় যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
চিকিৎসার উন্নতি না হওয়ায় গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেদিনই বেলা ১২টা ৭ মিনিটে মারা যান তিনি। তাঁর মৃত্যু আশপাশের গ্রামের মানুষকেও কাঁদিয়েছে। পরিবারে অভাব ছিল, কিন্তু ভালোবাসার কমতি ছিল না। সবার প্রশ্ন, এরপরও কেন এমন হলো?
এ ব্যাপারে ঢাকার শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি, নম্বর ৯১৪) করেন কর্তব্যরত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মঈনুল ইসলাম। এরপর গত ১৬ মার্চ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে সোহাগের মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তাঁর এ অকালমৃত্যু এলাকার কেউ মেনে নিতে পারছেন না। ১৭ মার্চ তাঁকে গ্রামের কবরস্থানে দাফন করা হয়।
ওএফ





