আতঙ্ক, ভয়, উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যেই শিক্ষার্থীরা সারাদেশে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা দিয়েছে। শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

রাজধানীসহ সারাদেশের পরীক্ষাকেন্দ্রে ও এর আশপাশে পুলিশের সঙ্গে র‌্যাব ও বিজিবি মোতায়েন ছিল। এবার ১৪ লাখ ৭৯ হাজার ২৬৬ জন শিক্ষার্থী এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের হরতাল-অবরোধ কর্মসূচির কারণে দুই দফা পরীক্ষা পেছানোর পর শুক্রবার সকাল ৯টায় প্রথম পরীক্ষা শুরু হয়। তবে প্রথম পরীক্ষা দেওয়ার পরও শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের মধ্যে উৎকণ্ঠা কমেনি।

রাজধানীর বেশ কয়েকটি পরীক্ষাকেন্দ্রের শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতিতে যেমন ব্যাঘাত ঘটেছে, তেমনি বাকি পরীক্ষাগুলো নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

আজিমপুর সরকারি গার্লস স্কুল এ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের সামনে থাকা অভিভাবক সাবিনা আক্তার বলেন, ‘অনেকটা ভয়ের মধ্যেই সন্তানকে পরীক্ষাকেন্দ্রে নিয়ে এসেছি। কিন্তু দেশের যে অবস্থা তাতে পরবর্তী পরীক্ষাগুলো নিয়েও খুব চিন্তায় আছি।’

তিনি বলেন, ‘হরতাল-অবরোধের কারণে শুক্র, শনি, রবিবার টানা তিনটি পরীক্ষা দিতে হবে শিক্ষার্থীদের। এটা তাদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। কারণ নির্দিষ্ট সময় হিসাব করেই সবাই প্রস্তুতি নেয়। আর রবিবার হরতাল হলে আবার পরীক্ষার সিডিউল পরিবর্তন হয়ে যাবে। এটা প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্যই আতঙ্কের।’

এদিকে ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে পরীক্ষা দেওয়া মকবুল হোসেন পরবর্তী পরীক্ষাগুলো নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে বলে, ‘রাজনীতিবিদরা এখন পরীক্ষা নিয়েও রাজনীতি শুরু করেছে। যে অবস্থা তাতে মনে হচ্ছে রবিবারও হরতাল হবে। আর শুক্র, শনিবার করে পরীক্ষা দিলে পরীক্ষা যে কবে শেষ হবে তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই।’

।’শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিদেশে ৮টি কেন্দ্রসহ এবার ৩ হাজার ১১৬টি কেন্দ্রে ২৭ হাজার ৮০৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেবে। ৮টি বোর্ডের অধীনে এসএসসিতে ১১ লাখ ১২ হাজার ৫৯১ জন, মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে দাখিলে ২ লাখ ৫৬ হাজার ৩৮০ জন এবং এসএসসি ভোকেশনালে (কারিগরি) ১ লাখ ১০ হাজার ২৯৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দেবে। এর মধ্যে ৭ লাখ ৬৩ হাজার ৩৩৯ জন ছাত্র এবং ৭ লাখ ১৫ হাজার ৯২৭ জন ছাত্রী।

এবার দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, সেরিব্রাল পালসিজনিত প্রতিবন্ধী এবং যাদের হাত নেই এমন পরীক্ষার্থীরা শ্রুতিলেখক নিয়ে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। শারীরিক প্রতিবন্ধকতার জন্য তারা অতিরিক্ত ২০ মিনিট সময়ও পেয়েছে।’

জেআই