টানা ভারী বর্ষণে উপজেলা সদরসহ শার্শা উপজেলার প্রায় অর্ধশত গ্রাম তলিয়ে গেছে। ৪ হাজার ৬শ’ হেক্টর (১২০০টি) মাছের ঘের ভেসে গেছে। ১৩শ’ হেক্টর রোপা আমন ও সবজি খেত ডুবে গেছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার শাখারীপোতা, বাহাদুরপুর, স্বরবাংহুদা, বোয়ালিয়া, মানকিয়া, রঘুনাথপুর, ঘিবা, ধান্যখোলা, মান্দারকতলা, ডুবপাড়া, নটাদিঘা, হরিনাপোতা গ্রামসহ প্রায় অর্ধশত গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। চরম দুর্ভোগে পড়েছে এসব গ্রামের দরিদ্র জনগোষ্ঠী।

ভারী বর্ষণে উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় অনেক পরিবার তাদের পরিজন ও গবাদিপশু নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে শুরু করেছে। মৎস্য ঘের মালিকরা আহাজরি করছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হিরক কুমার জানান, উপজেলার প্রায় অধিকাংশ মাছের ঘের ভেসে গেছে। মৎস্য চাষিদের ১৫০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। জেলা অফিসে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানিয়ে তথ্য পাঠানো হয়েছে।

১৩শ’ হেক্টর রোপা আমন ও সবজি খেত পানিতে ডুবে গেছে। ক্ষতিগ্রস্থ ফসলের মূল্য তালিকা নির্ণয় করা হচ্ছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রব জানিয়েছেন, উপজেলার প্রায় ৩৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। বিদ্যালয় খোলা থাকলেও শিক্ষার্থীরা আসতে পারছে না।

টানা বর্ষণ ও দমকা হাওয়ার বেগে এলাকার অনেক গাছপালা ভেঙে ও উপড়ে পড়েছে। বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে ও তার ছিড়ে এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

প্লাবিত অঞ্চলের হাজার হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। গত ২ দিনের টানা বর্ষণে পানির তোড়ে ভেঙে গেছে অধিকাংশ কাঁচা-পাকা রাস্তাঘাট। অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্থ ও পানি বন্দিদের সরকারি আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন।

এসএম/ নাসির