বাংলাদেশের সরকার অবশেষে মেয়েদের বিয়ের সর্বনিম্ন বয়স ষোলোতে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে।

দেশটির বর্তমান আইন অনুযায়ী আঠারো বছরের আগে মেয়েদের বিয়ে দেয়া নিষিদ্ধ হলেও গবেষণা বলছে এখনো দেশের ৬৪ শতাংশ মেয়ের তার আগেই বিয়ে হয়ে যায়।

সরকারী বেসরকারী নানা উদ্যোগ সত্ত্বেও এটা ঠেকানো যাচ্ছে না কেন?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের প্রধান সৈয়দ মোহাম্মদ শাইখ ইমতিয়াজ বলছিলেন, অর্থনৈতিক কারণটাই মূল কারণ।

গবেষণায় উঠে এসেছে, যেসব পরিবার দরিদ্র সেখানেই বাল্য বিয়ে বেশি হয়।

“তবে আরেকটা বিষয় অনেকের মধ্যে কাজ করে কমবয়সী মেয়েরা বিয়ের জন্য ভালো। যেসব মেয়েদের বয়স কম তাদের বিয়েতে যৌতুক কম লাগছে।

“বিশেষ করে বয়স ১৫ বছরের নীচে যাদের বিয়ে হচ্ছে যৌতুক কম লাগছে, আর যৌতুকের পরিমাণ দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে যখন মেয়ের বয়স ১৭ থেকে ১৯ হয়ে যাচ্ছে”- বলছিলেন ইমতিয়াজ।

এ বিষয়ে গবেষণা করতে যেয়ে তারা একই গ্রামে এমন কয়েকজন পিতাকে পেয়েছেন যারা একইরকম আর্থসামাজিক অবস্থায় থাকলেও মেয়ের বিয়ে দেননি, পড়ালেখা করিয়েছেন।

ইমতিয়াজ বলছিলেন, “এরা কোনভাবে বুঝতে পেরেছেন কম বয়সে মেয়েটার বিয়ে দিলে তার জীবনটা নষ্ট হয়ে যাবে”।

গবেষণা কাজ থেকে তারা দেখেছেন বাবারা যখন সচেতন হয়ে যাচ্ছেন তখন বাল্যবিয়ে ঠেকানো আরও সহজ হয়ে যাচ্ছে।

শাইখ ইমতিয়াজ বলছিলেন, “বাল্য বিয়ে রোধে এখন পর্যন্ত যেসব উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তা নারীদের টার্গেট করে নেয়া হয়েছে। বাবাদের টার্গেট করে উদ্যোগ নেয়া হয়, যদি বাবাদের বুঝানো যায় যে তার কমবয়সী মেয়ের বিয়ে হলে জীবনটা নষ্ট হয়ে যাবে তাহলে অবস্থার নাটকীয় পরিবর্তন ঘটবে”। সূত্র: বিবিসি বাংলা

ইআর