চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার সাধানপুর ইউনিয়নের লালমণি নামক পাহাড়ে বিশেষ অভিযান চালিয়ে রোববার ভোররাতে পাঁচ জনকে আটক করেছে র্যাব-৭।
ঘটনাস্থলকে জঙ্গি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র দাবি করে র্যাব জানিয়েছে, সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গুলি এবং অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। ওই পাহাড়ে গরু-মুরগির খামার রয়েছে বলে জানা গেছে।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ জানিয়েছেন, জঙ্গি সন্দেহে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি হাটহাজারী থেকে গ্রেপ্তার ১২ জনকে জিজ্ঞাসাবাদে এই আস্তানার কথা জানা যায়।
রোববার দুপুরে ওই পাহাড়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, শনিবার বিকাল থেকে পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে আসছেন তারা। এ পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তিনটি একে-২২ রাইফেল, ছয়টি রিভলবার, একটি পিস্তল ও তিনটি এলজি উদ্ধার করা হয়েছে। প্রায় সাত থেকে আটশ রাউন্ড বিভিন্ন ধরনের গুলি পাওয়া গেছে।
গ্রেফতাররা হলেন- আমিনুল ইসলাম, আব্দুল খালেক, হাবিবুর রহমান, আমির হোসেন ও মোবাশ্বের হোসেন। এদের সবার বয়স ২০ থেকে ২২ বছরের মধ্যে।
র্যাব কর্মকর্তা মাহমুদ বলেন, খামারের আড়ালে পাহাড়ের বিশাল এলাকায় আস্তানা গেড়ে সেখানে নিয়মিত জঙ্গি প্রশিক্ষণ দেয়া হতো।
তিনি বলেন, বিভিন্ন এলাকা থেকে দরিদ্র পরিবারের ছেলেদের এনে প্রথমে তাদের আরবি ও ইসলামের বিভিন্ন বিষয় শেখানো হতো। এরপর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলমানদের ওপর হামলার দৃশ্য দেখিয়ে মুসলমাদের মুক্তির জন্য জঙ্গিবাদে তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করা হতো।
ওসামা বিন লাদেন ও আইমান আল-জাওয়াহিরির মতো বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীর নেতাদের বক্তব্য এবং জঙ্গিদের বিভিন্ন সফল অপারেশনের ভিডিওচিত্র তাদের দেখানো হতো।
সেখানে অস্ত্র চালনা ও গেরিলা প্রশিক্ষণ, এমনকি বিমান ছিনতাইয়েরও প্রশিক্ষণ দেয়া হতো বলে জানান তিনি।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ছমিরউদ্দিন জানান, ২০১০ সালে পাহাড়টি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের আওতায় আসার পর সেখানে সাধারণ মানুষের যাতায়াত দৃশ্যত বন্ধ হয়ে যায়।
তিনি বলেন, ১৯৯১ সালের ঝড়ের পর বাঁশখালীর ছনুয়া থেকে এসে এখানে বসতি গাড়েন মাওলানা মোবারক। মাওলানা আজিজ নামে আরেকজনকে নিয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে ১২০ শতক জমি কিনে গরু, মুরগি ও ভেড়ার খামার করেছিলেন তিনি।
ওই মোবারককেই এখনো ধরতে পারেননি বলে র্যাব কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এআর





